কলকাতার বুকে তোলাবাজির অভিযোগে এবার শ্রীঘরে গেলেন এক দাপুটে যুব তৃণমূল নেতা। শহরের দক্ষিণ শহরতলির পাটুলি (Patuli) এলাকা থেকে সৌরভ ঘোষ (Sourav Ghosh) নামের ওই শাসকদলের যুব নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এলাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের একাধিক অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। অবশেষে বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদ এবং আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে অনড় অবস্থানের জেরে তৎপর হয়ে পুলিশ তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ধৃত সৌরভ ঘোষ এলাকায় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের (Trinamool Youth Congress) একজন সক্রিয় এবং প্রভাবশালী মুখ হিসেবেই পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই পাটুলি এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সিন্ডিকেট রাজ (Syndicate Raj) চালানো ও তোলাবাজি করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমছিল সাধারণ মানুষের মনে।
বিজেপির থানা ঘেরাও ও তীব্র বিক্ষোভ
ঘটনার সূত্রপাত হয় সম্প্রতি এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ওই ব্যবসায়ী টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনা জানাজানি হতেই কোমর বেঁধে ময়দানে নামে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি (BJP)। শুক্রবার রাতে পাটুলি থানার (Patuli Police Station) সামনে ব্যারিকেড ভেঙে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা।
বিজেপি নেতৃত্বের সাফ দাবি ছিল, এলাকায় দিনের পর দিন শাসকদলের মদতে এই তোলাবাজির সিন্ডিকেট চলছে, অথচ পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। অভিযুক্ত যুব নেতাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার না করা হলে থানা চত্বরেই অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্নায় বসার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
চাপের মুখে নতিস্বীকার, রাতেই গ্রেপ্তার
থানার বাইরে বিক্ষোভের পারদ যত চড়তে থাকে, ততই চাপ বাড়তে থাকে প্রশাসনের ওপর। কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) উচ্চপদস্থ কর্তারা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপরই পাটুলি থানার পুলিশ গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল যুব নেতা সৌরভ ঘোষকে তাঁর বাসস্থান থেকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় তোলাবাজি (Extortion), হুমকি এবং ভয় দেখানোর মামলা রুজু করা হয়েছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে জোর কদমে কাদা ছোড়াছুড়ি। বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের দাবি, “পুলিশ প্রথমে শাসকদলের নেতা বলেই আড়াল করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু আমাদের যুব মোর্চার কর্মীরা অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) স্থানীয় এক শীর্ষ নেতা জানান, “দল কোনো ধরনের তোলাবাজি বা বেআইনি কাজকে প্রশ্রয় দেয় না। আইন আইনের পথেই চলবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।” আপাতত ধৃত যুব নেতাকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার তোড়জোড় করছে পুলিশ।


Recent Comments