সোমবার সকাল থেকেই রাজনৈতিক অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছিল এক বড়সড় পরিবর্তনের গুঞ্জন। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনাই সত্যি হলো। তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) বর্ষীয়ান নেতা তথা রাজ্যসভার (Rajya Sabha) সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy) আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন।
শুধু সাংসদ পদই নয়, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে তিনি দল থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক মহলে এখন প্রবল চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।সংবাদসূত্রে খবর, সোমবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন সুখেন্দুশেখর।
তাঁর কথা অনুযায়ী, তৃণমূলের করা দুর্নীতির জন্যেই পদত্যাগের করেছেন তিনি। শুরু টা হয়েছিলো ২০১১ সালে। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর ডেলো পাহাড়ে হওয়া চিটফান্ড কর্ণধারের বিতর্কিত বৈঠকের ব্যাপারেও মুখ খোলেন তিনি এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বিক্রির বিষয়টি কে নিয়ে তিনি বলেন “ছবি ১০-১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কেউ কেউ তাঁকে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির সঙ্গে তুলনা করছেন। ছবি কিনছেন চিটফান্ডের মালিকরা। দুর্নীতি তো শুরু তখন থেকেই। দলে আদর্শ ছিল না। কর্মসূচি ছিল সিপিএমকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসা আর লুটপাট করা। তা অবশ্য মানুষ কিংবা আমরা বুঝতে পারিনি। একটা সময় দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা নিল।”
তাঁর মতে দলে সৎ নেতাদের কোনোকালেই কদর ছিলনা। তিনি বলেন দলের নেতারা সাধারণ মানুষের ভাষা না বুঝলে দলের পতন অনিবার্য। তিনি ইন্দিরা গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন “ইন্দিরা গান্ধী ষাট বছর বয়সে পরাজয়ের পরেও ফিরে এসেছিলেন। আমাদের নেতৃত্বের কেউ ৭০, ৭৭। সবাই জাতীয় নেতা। আঞ্চলিক কিংবা স্থানীয় নেতা নেই। সকলেই জাতীয় নেতা। আগে তাঁদের কার, কত সম্পত্তি আছে তা দেখা দরকার। হাসপাতাল সংক্রান্ত সব কিছুর ফরেন্সিক অডিট হওয়া প্রয়োজন।”
আর জি করের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন “আর জি কর নিয়ে আমি আগেও প্রকাশ্যে মুখ খুলেছি। ধরনা দিয়েছি। আমার অপরাধ বলেছিলাম আরজিকর এবং পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে তদন্ত হোক। তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হল। যাঁরা অভিযুক্ত তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। এইসব দেখেশুনে তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। প্রত্যেকে সঠিক সময়ের অপেক্ষা করে। আমিও তাই করেছি। আমি জানতাম এটা ঘটবে। আর জি করের জনবিস্ফোরণ দেখেই বুঝেছিলাম, এটা হবে। চব্বিশ সালে দারুণ ফলের চার-পাঁচ মাস পর যেভাবে মানুষ পথে নামলেন, তা থেকেই বুঝেছিলাম এটা হবে।”
উল্লেখ্য, সুখেন্দুশেখরের এই পদত্যাগের পাশাপাশি তৃণমূলের অন্দরে আরও কিছু পরিবর্তনের খবর ভেসে আসছে। একদিকে যখন দলের বিভিন্ন নেতাদের গ্রেপ্তার ও অন্যান্য রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে, ঠিক তখনই এই পদত্যাগ বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এই ভাঙন আগামী দিনে আর কতটা বড় আকার নেয়, সেটাই এখন সময়ের অপেক্ষা।


Recent Comments