back to top
Saturday, June 13, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeবিবিধএবার সোনারপুরে দুর্নীতি কাঁটা! সরকারি ত্রাণের চাল ও ত্রিপল চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার...

এবার সোনারপুরে দুর্নীতি কাঁটা! সরকারি ত্রাণের চাল ও ত্রিপল চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার রাজপুর-সোনারপুরের দাপুটে কাউন্সিলর

রাজ্যের একাধিক জায়গায় দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে হেভিওয়েট নেতাদের গ্রেপ্তানির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা এলাকায় বড়সড় ধাক্কা খেল শাসক শিবির। প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং সাধারণ গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ত্রাণসামগ্রী (Government Relief Materials) গুদামজাত করে কালোবাজারি করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এক দাপুটে কাউন্সিলর। বুধবার গভীর রাতে সোনারপুর থানার পুলিশ রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার (Rajpur Sonarpur Municipality) ওই কাউন্সিলরকে তাঁর নিজের এলাকা থেকেই গ্রেপ্তার করেছে।

​পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত কাউন্সিলরের নিজস্ব একটি খাটাল এবং তার সংলগ্ন গুদামঘর থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণের ত্রিপল, চাল এবং কম্বল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

​গোপন সূত্রে হানা, উদ্ধার কুইন্টাল কুইন্টাল ত্রাণের চাল ও ত্রিপল

​পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার একটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ত্রাণ প্রকৃত উপভোক্তাদের না দিয়ে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার অভিযোগ আসছিল। বুধবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোনারপুর থানার আইসি-র (IC Sonarpur) নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল ওই কাউন্সিলরের রাজপুর সংলগ্ন একটি গোপন গুদামে আকস্মিক হানা দেয়।

​সেখানে তল্লাশি চালাতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। গুদামের ভেতর সার দিয়ে রাখা ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ দফতর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সিলমোহর দেওয়া প্রায় ১০০-র বেশি ত্রিপল, কয়েক কুইন্টাল চালের বস্তা এবং শীতকালীন ত্রাণের কম্বল। এই সমস্ত সরকারি সামগ্রী সেখানে কীভাবে এলো, তার কোনো বৈধ নথি বা সদুত্তর দিতে না পারায় রাতেই ওই কাউন্সিলরকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

​গরিবের হক মারার প্রতিবাদে সরব বিরোধীরা

​কাউন্সিলরের গ্রেপ্তানির খবর জানাজানি হতেই রাজপুর ও সোনারপুর এলাকায় রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি (BJP) ও সিপিআইএম (CPIM) নেতৃত্ব দাবি করেছে, “আমফান থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক প্রতিটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এই পুরসভার সাধারণ গরিব মানুষ ঠিকমতো ত্রিপল আর চাল পাননি। আজ প্রমাণিত হলো যে গরিবের পেটে লাথি মেরে শাসকদলের কাউন্সিলররা সরকারি ত্রাণ চুরি করে নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন। এর পেছনে পুরসভার আরও বড় বড় রাঘববোয়াল জড়িয়ে রয়েছে।” বিরোধীরা অবিলম্বে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি ধৃত কাউন্সিলরের পদত্যাগের দাবি তুলেছে।

আরো পড়ুন:  Mamata Banerjee: ক্যামাক স্ট্রিটের জনসভায় পুলিশ এবং কমিশনকে কটাক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

​আইন আইনের পথে চলবে, দায় এড়ালো দল

​এদিকে এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে রাজপুর-সোনারপুর পুর কর্তৃপক্ষ ও তৃণমূল নেতৃত্ব। পুরসভার এক শীর্ষ কর্তা জানান, “কাউন্সিলর ব্যক্তিগত স্তরে কোনো অপরাধ করে থাকলে তার দায় পুরসভা বা দল নেবে না। মুখ্যমন্ত্রী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে দুর্নীতি করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। পুলিশ আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ করছে এবং তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করা হবে।”

​আপাতত ধৃত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ (Misappropriation of Government Property) এবং চুরির সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সমস্ত সরকারি সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং এই কালোবাজারি চক্রের সাথে আর কারা যুক্ত, তা জানতে ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments