সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)-র মুখোমুখি হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) শীর্ষ নেতা তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বৃহস্পতিবার বিকেলে দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে নেমেই তিনি সোজা চলে যান আলিপুরের ভবানী ভবনে (Bhabani Bhawan)। একটি হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য গোয়েন্দা দফতর।
এর আগে ব্যস্ত রাজনৈতিক সূচির কারণ দেখিয়ে সিআইডি-র সমন এড়ালেও, এদিন তিনি নিজে এসে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন। গোয়েন্দা দফতর সূত্রে জানা গেছে, এক বিধায়কের জাল সই (MLA Fake Signature Case) সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই এই জিজ্ঞাসাবাদ।
কোন মামলায় এই জিজ্ঞাসাবাদ?
সিআইডি সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার এক প্রভাবশালী বিধায়কের জাল সই করে সরকারি নথি জালিয়াতি এবং আর্থিক তছরুপের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তে নেমেই বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য ও সূত্র হাতে পান গোয়েন্দারা। সেই সূত্র ধরেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। এদিন ভবানী ভবনের চারতলার একটি বিশেষ ঘরে সিআইডি-র ডিআইজি (DIG CID) এবং বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
দিল্লি সফর সেরেই সোজা গোয়েন্দা দফতরে
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে দিল্লির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে চরম ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী জোটের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সেরে বৃহস্পতিবার দুপুরেই তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী, কলকাতা বিমানবন্দরে পা রাখার পর তিনি বাড়ির পথ না ধরে সোজা চলে যান ভবানী ভবনে। এর আগে তাঁর আইনজীবীরা সিআইডি-র কাছে হাজিরার জন্য অন্য দিন চেয়ে চিঠি দিলেও, আইনি জটিলতা এড়াতে এবং তদন্তে সহযোগিতা করতেই তিনি এদিন দ্রুত হাজির হন বলে তৃণমূল শিবিরের দাবি।
কড়া নিরাপত্তা বলয়ে ভবানী ভবন
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই ভবানী ভবন চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম আঁটোসাঁটো করা হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে কালীঘাটের তৃণমূল ভবনে সিআইডি হানা এবং অন্যদিকে সব্যসাচী দত্তের মতো হেভিওয়েট নেতার গ্রেপ্তারি নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক সেই আবহে খোদ অভিষেকের ভবানী ভবনে গিয়ে সিআইডি-র মুখোমুখি হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তদন্তকারীদের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বলেই জানা গেছে। আপাতত এই মামলার জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


Recent Comments