পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের বাতাবরণ ফেরাতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে বর্তমান সরকার। রাজ্যের বেকারত্ব দূর করতে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেছেন, শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণে আর অতীতের মতো রক্তক্ষয়ী পথ অবলম্বন করা হবে না। বরং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং আলোচনার মাধ্যমেই রাজ্যে নতুন শিল্প সম্ভাবনা তৈরি করা হবে।
শিল্পের নতুন রূপরেখা
রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ এবার কর্মসংস্থানমুখী ও শিল্পবান্ধব হবে। ১৯৮৪ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন মেনেই সরকার জমি কিনছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বেকারত্ব থেকে মুক্তি চান। নন্দীগ্রামের মতো গুলি না চালিয়েও যে শিল্প আনা যায়, নতুন সরকার সেটাই প্রমাণ করে দেখাবে।” তিনি আরও যোগ করেন, নন্দীগ্রামের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না করেও যে শিল্পায়ন সম্ভব, তা এই সরকার প্রমাণ করে দেখাবে। সিপিএম (CPM) সরকারের শাসনামলে জমি অধিগ্রহণের নামে যে বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল, তা থেকে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ আলাদা পথে হাঁটবে বলেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সিঙ্গুরে টাটা ফেরানোর পরিকল্পনা
শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দেন সিঙ্গুর ও টাটা (Tata) গোষ্ঠী নিয়ে এখনই বিশদ কিছু না বললেও আশ্বাস দেন যে , টাটাকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনা হবেই।” বিগত সরকার সিঙ্গুরের জমি চাষিদের ফেরত দিলেও সেখানে কৃষি কাজের উপযোগী পরিস্থিতি নেই বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, জমির নিচে রড ও সিমেন্ট মিশে যাওয়ায় মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই সেখানে নতুন করে শিল্প কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।
শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের (Tapas Roy) ওপর আস্থা রেখে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার লোক দেখানো কোনো ‘ফটো সেশন’-এ বিশ্বাসী নয়। ইতিমধ্যে বহু বড় শিল্প সংস্থা থেকে প্রস্তাব এসেছে, যা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের দল গঠন করা হয়েছে। রাজ্যে বড়, মাঝারি ও ছোট—এই তিন স্তরের সমন্বয়ে ‘ত্রিফলা’ শিল্প গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
রেল পরিকাঠামো ও নতুন কর্মসংস্থান
রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কাঁচরাপাড়া (Kanchrapara) এবং খড়্গপুর (Kharagpur)-এর মতো শিল্পাঞ্চলগুলোতে অবস্থিত রেলের কারখানাগুলোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। সেখানে নতুন কারখানা ও কাজের সুযোগ তৈরির জন্য রেলমন্ত্রীর কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিজিবিএস-এর ৬৩৫ কোটির তদন্তের হুঁশিয়ারি
শিল্পায়নের পাশাপাশি বিগত তৃণমূল (Trinamool) সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন’ (BGBS)-এর নাম করে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে সরকারি কোষাগার থেকে ৬৩৫ কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই বিপুল অর্থ খরচের প্রতিটি পাইপয়সার হিসেব নেওয়া হবে। তিনি কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারি টাকার অপচয় কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হবে।


Recent Comments