নদীতে স্নান করতে যাওয়ার আনন্দ মুহূর্তের মধ্যেই বদলে গেল এক নিদারুণ বিষাদে। বন্ধুদের সঙ্গে নদীর ঘাটে আড্ডা ও স্নান করতে নেমে ভাগীরথী নদীর তীব্র স্রোতে তলিয়ে গেল দুই কিশোর। শনিবার সকালে চাঞ্চল্যকর এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে নদীয়া জেলার (Nadia) শান্তিপুর থানার অন্তর্গত নৃসিংহপুর ফেরিঘাট এলাকায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ২২ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক এবং শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ দুই যুবকের নাম আকাশ ও বাপি। শনিবার সকালে একদল বন্ধুর সঙ্গে তাঁরা নৃসিংহপুর ঘাটে ভাগীরথী নদীতে স্নান করতে নেমেছিলেন।
চোখের সামনেই জলের তোড়ে ভেসে গেল দুই কিশোর
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন সকালে ভাগীরথীর ঘাটে অন্য বন্ধুদের সঙ্গে স্নান করার সময় হঠাৎ করেই গভীর জলের দিকে চলে যান আকাশ ও বাপি। নদীর তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে তাঁরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে হাবুডুবু খেতে শুরু করেন। চোখের সামনে দুই বন্ধুকে এভাবে জলের তোড়ে ভেসে যেতে দেখে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাকি বন্ধুরা ও ঘাটে উপস্থিত অন্যান্যরা চিৎকার শুরু করেন। তাঁদের চিৎকার শুনে আশেপাশের বাসিন্দারা এবং ঘাটের নৌকার মাঝিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তল্লাশি
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শান্তিপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং কিছু অভিজ্ঞ সাঁতারু তৎক্ষণাৎ নদীতে নেমে প্রাথমিক উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে নামানো হয় বিশেষ বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও ডুবুরি দল। নৃসিংহপুর ফেরিঘাট ও তার পার্শ্ববর্তী নদী বরাবর দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে চিরুনি তল্লাশি। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, নিখোঁজ দুই কিশোরের এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। তবে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল তল্লাশি অভিযান জারি রেখেছে।
নদীতে নামার ক্ষেত্রে সতর্কতার অভাব ও নদীর গভীরতা আন্দাজ করতে না পারার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুমান স্থানীয়দের। খবর পেয়ে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা ঘাটে এসে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। এই দুর্ঘটনা নদী বা জলাশয়ে নামার ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে আরও একবার বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।


Recent Comments