অশোক সেনগুপ্ত
“বাংলা সংস্কৃতির অপ্রতিহত কৌলিন্য রুখতে নানা মহলে বিভাজনের বীজ পুঁতে দেওয়ার একটা চেষ্টা শুরু হয়েছিল। পরে এই বিভাজন আবশ্যিক হয়ে ওঠে। এর নেপথ্যের কারণ পরে ব্যাখ্যা করেছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি। শনিবার ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’-স্মরণ অনুষ্ঠানে এ কথা স্মরণ করেন পরিষৎ-এর সম্পাদক অধ্যাপক ডঃ রমেন সর।
বঙ্গের অতীতের প্রেক্ষাপট, ১৮৫৪, ১৮৭৪, ১৮৯৬ ও ১৯০০ সালে এই প্রদেশের আয়তন ও লোকসংখ্যা বদলের উল্লেখ করে এই আলোচনায় যুগ পরিবর্তনের আলেখ্য তুলে ধরেন রমেনবাবু।
অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসাবে প্রবীন বুদ্ধিজীবী, বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ-এর সহ সভাপতি ডাঃ সুবীর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “মনে রাখতে হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ মানে বিরোধ, বা বিরহ, বা বিভেদের দিন নয়। দেখতে হবে আক্ষরিক অর্থেই এটা যেন হয় মিলনের দিন। আমাদের নিরাপদ হোমল্যান্ডে সবাই যেন মিলেমিশে থাকেন।”
অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত মূল বক্তা লেখক-সাংবাদিক অশোক সেনগুপ্ত ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’-এর সার্বিক আলোকপাতে একদিকে স্মরণ করেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি, অধ্যাপক ডঃ সুনীতি চট্টোপাধ্যায়, ডঃ মেঘনাদ সাহার অবদান, অন্যদিকে উল্লেখ করেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়, প্রবীন সাংবাদিক-লেখক মিহির গঙ্গোপাধ্যায়ের গবেষনা।
পরিষৎ-এর পরিচালনমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য অধ্যাপিকা নবনীতা বসু তাঁর সমাপ্তিভাষণে স্মরণ করেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের লেখা বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গান ‘ধনধান্য পুষ্পে ভরা’-র ‘‘ভায়ের মায়ের এত স্নেহ, কোথায় গেলে পাবে কেহ’’— অত্যন্ত আবেগপূর্ণ এই পঙ্ক্তির। অনুষ্ঠান সংযোজনার দায়িত্বে ছিলেন দীপঙ্কর মল্লিক।


Recent Comments