নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে এবার প্রার্থনা সঙ্গীতের অংশ হিসেবে গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম’। নতুন রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা। তবে শিক্ষা মহলের একাংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের মতে, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
সম্প্রতি স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে জারি হওয়া একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গরমের ছুটির পর স্কুল খুললেই প্রতিদিন সকালের প্রার্থনায় জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে গাওয়া হবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’। রাজ্যের সমস্ত জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং প্রধান শিক্ষকদেরও এ বিষয়ে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তাঁর বক্তব্য, নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ এবং সাংস্কৃতিক চেতনা জাগিয়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকাও। রায়গঞ্জ করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কালিচরণ সাহা বলেন, “বর্তমানে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গান তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।”
রায়গঞ্জ সুদর্শনপুর দ্বারিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যাচক্রের প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ দত্তের মতে,
“রবীন্দ্রনাথের পাশাপাশি বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম’ও আমাদের জাতীয় চেতনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই গান শুধু সংগীত নয়, দেশের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য প্রকাশ। স্কুল খুললে আমরা অবশ্যই প্রার্থনায় এই গান অন্তর্ভুক্ত করব।”
প্রাথমিক শিক্ষক সব্যসাচী দত্তও এই সিদ্ধান্তের সমর্থনে বলেন, “অযথা বিতর্ক না বাড়িয়ে এটিকে দেশাত্মবোধ জাগানোর উদ্যোগ হিসেবেই দেখা উচিত। শিক্ষাঙ্গনে ‘বন্দে মাতরম’ অবশ্যই গ্রহণযোগ্য।”
রাজ্যের স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি চললেও ইতিমধ্যেই নতুন এই নির্দেশিকা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে। শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও বিদ্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recent Comments