ক্ষমতা এবং প্রোটোকল—সাধারণত এই দুই শব্দবন্ধের সঙ্গে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা বিশেষ সুবিধার ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু রবিবার দুপুরে রাজধানী দিল্লির আকাশে যা ঘটল, তা যেন চিরাচরিত সেই ধারণাকে উল্টে দিল। দেশজুড়ে যখন মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG) অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তখন পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের কথা ভেবে দীর্ঘ ৪৫ মিনিট দিল্লি (Delhi) বিমানবন্দরে অপেক্ষা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কোনো ভিআইপি প্রোটোকল বা ক্ষমতার দম্ভ নয়, বরং একজন অভিভাবকসুলভ দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ। কলকাতা (Kolkata) এবং ওড়িশা (Odisha) সফর সেরে প্রধানমন্ত্রী যখন বিশেষ বিমানে দিল্লি বিমানবন্দরে এসে নামেন, তখন শহরজুড়ে নিট পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত ব্যস্ততা। হাজার হাজার পরীক্ষার্থী তখন তাদের নিজ নিজ পরীক্ষা কেন্দ্রের দিকে ছুটছেন। সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর কনভয় যখন রাস্তা দিয়ে যায়, তখন নিরাপত্তার কারণে সাধারণ যান চলাচল সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। দুপুর ২টা থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। ঠিক এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী যদি বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তাঁর সরকারি বাসভবনে যেতেন, তবে স্বাভাবিকভাবেই রাস্তায় ট্র্যাফিক জ্যাম বা বিধিনিষেধের কারণে বহু পরীক্ষার্থী বিপাকে পড়তে পারতেন।
প্রধানমন্ত্রী নিজের নিরাপত্তার চেয়েও পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, পরীক্ষা শুরু না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিমানবন্দর থেকেই বেরোবেন না। সরকারি নথিপত্রে এই সময়কাল ৪৫ মিনিটের। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক দুপুর ২টা বাজার পর, অর্থাৎ যখন প্রতিটি পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছেন এবং পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে, ঠিক তখনই তিনি বিমানবন্দর থেকে নিজের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক ও সংবেদনশীল পদক্ষেপে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসার ঝড় উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রধানমন্ত্রী যখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থেকেও সাধারণ মানুষের ছোট ছোট অসুবিধাকে গুরুত্ব দেন, তখন তা সাধারণ নাগরিকের মনে ভরসার জায়গা তৈরি করে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর রবিবার পুনরায় দেশজুড়ে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী ৫,৪৪০টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) এবার সিসিটিভি ক্যামেরা, এআই-ভিত্তিক নজরদারি এবং সিগন্যাল জ্যামারের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করেছে।


Recent Comments