মঙ্গলবার সকাল থেকেই এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল হলদিয়া (Haldia)। শিল্পনগরীর প্রাণকেন্দ্র হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস (Haldia Petrochemicals) লিমিটেডের ন্যাপথা পাইপলাইনে হঠাৎ করেই বিধ্বংসী আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। মুহূর্তে সেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে, যার ফলে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার রাত থেকেই ন্যাপথা লিক হওয়ার বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন কর্মীরা। বাতাসে কটু গন্ধ পাওয়ায় সন্দেহ দানা বাঁধে। অভিযোগ উঠছে, এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে আগাম জানানো হলেও তড়িঘড়ি কোনো রকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ সেই পাইপলাইন থেকে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। আগুনের শিখা ক্রমশ উচ্চতায় বাড়তে থাকায় চারপাশ ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ১৫ জন কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (Tamralipta Medical College and Hospital) স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। এমনকি আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ২ জনকে কলকাতায় (Kolkata) রেফার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর যে, হলদিয়া থেকে হাওড়া (Howrah) ও পাঁশকুড়া (Panskura) গামী ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত এলাকাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে দমকলের ১২টিরও বেশি ইঞ্জিন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস কর্তৃপক্ষের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে সকল কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং লিক হওয়ার বিষয়টি কেন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি, তা নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


Recent Comments