অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং কর্তব্যরত আধিকারিকদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করার মতো গুরুতর অভিযোগে অবশেষে শ্রীরামপুর (Serampore) থানায় হাজিরা দিলেন অপরূপা পোদ্দার (Aparupa Poddar)। তবে এদিন তাঁর থানায় প্রবেশের মুহূর্তটি ছিল বেশ নজরকাড়া এবং তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এদিন তাঁকে দেখা গেল একেবারে এক আইনজীবীর পোশাকে। গায়ে কালো কোট এবং সাদা কলার, রীতিমতো আইনি লড়াইয়ের কড়া বার্তা দিয়েই যেন তিনি এদিন থানার ভেতরে প্রবেশ করেন।
ঘটনার সূত্রপাত বেশ কয়েকদিন আগে। অপরূপা পোদ্দারের স্বামীর গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে সেই দিন ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল গোটা হুগলি (Hooghly) জেলা জুড়ে। অভিযোগ ওঠে, যেদিন পুলিশ তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করতে যায়, সেই সময় পুলিশের কাজে প্রবল বাধা সৃষ্টি করেন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর তুমুল বচসা শুরু হয়। এমনকি, উত্তেজনার বশে পুলিশকে ধাক্কাধাক্কি করার মতো বিস্ফোরক অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। একজন পরিচিত মুখের এহেন আচরণে স্বাভাবিকভাবেই সেই দিন হতবাক হয়েছিলেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলেই। আইনশৃঙ্খলার রক্ষকদের কাজে বাধা দেওয়ার এই ঘটনাকে মোটেই হালকাভাবে নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন।
এই ঘটনার পরই পুলিশ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং কর্তব্যরত আধিকারিকদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগে অপরূপা পোদ্দারের বিরুদ্ধে একটি স্বতঃপ্রণোদিত বা সুয়ো মোটো মামলা রুজু করা হয়। পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় যে, আইন সবার জন্য সমান, তিনি যেই হোন না কেন। আর সেই দায়ের হওয়া মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। আইনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্যই এবার তাঁকে সরাসরি পুলিশের মুখোমুখি হতে হলো।
এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধীরা স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রভাবশালীদের আত্মীয় বা পরিচিতরা যদি এইভাবে আইনের রক্ষকদের গায়ে হাত তোলেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষের একাংশের দাবি, সেদিন পুলিশি অতিসক্রিয়তা ছিল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয়েছিল। তবে, ঘটনার দিন আসলে ঠিক কী ঘটেছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চাইছে প্রশাসন।
স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু হওয়া মানে প্রশাসন এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
সাধারণত, যখন কোনো অপরাধমূলক কাজ সরাসরি পুলিশের চোখের সামনে ঘটে বা পুলিশের ওপরই আক্রমণ নেমে আসে, তখন বাইরের কোনো অভিযোগকারীর ভরসায় না থেকে পুলিশ নিজেই মামলা দায়ের করে। এ ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে।
এদিন নির্দিষ্ট সময়ে আইনজীবীর পোশাকে তিনি যখন থানায় এসে পৌঁছান, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং প্রচুর সাধারণ মানুষ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তাঁর এই আইনজীবীর পোশাক পরিধান করার বিষয়টি বেশ ইঙ্গিতবাহী। তিনি হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনি আইনি বিষয়গুলি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল।
তাই একজন সাধারণ অভিযুক্তের মতো নয়, বরং আইনের চোখ দিয়েই গোটা বিষয়টিকে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত তিনি। এদিন থানায় প্রবেশের সময় তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে সেভাবে মুখ খুলতে চাননি। চোয়াল শক্ত করে সোজা থানার ভেতরে চলে যান।


Recent Comments