পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas) জেলার বারুইপুরে (Baruipur) সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। সন্ধ্যায় বারুইপুর থানায় সিপিএমের (CPM) চার শীর্ষস্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি (BJP)।
থানায় অভিযোগ ও অভিযুক্তদের তালিকা
বারুইপুর থানায় দায়ের করা এই অভিযোগে সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty)-সহ সিপিএমের আরও তিন নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত বাকি তিন নেতা হলেন লাহেক আলি (Lahek Ali), মোনালিসা সিনহা (Monalisa Sinha) এবং সইফুদ্দিন মণ্ডল (Saifuddin Mondal)। বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি অরুণ প্রধান (Arun Pradhan) নিজে বাদী হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্রে সরাসরি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্ররোচনা ছড়ানো, জনসমক্ষে উস্কানিমূলক মন্তব্য প্রদান, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং এলাকায় দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ওই চার নেতা বারুইপুরের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং উস্কানি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বিজেপি।
বারুইপুরের উত্তাল প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত রবিবার বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে রেল অবরোধ, সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটে। এর মধ্যেই উত্তাল জনতা সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা (গণপিটুনি) করে।
মঙ্গলবার বারুইপুর পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নিন্দা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, গণপিটুনিতে নিহত ওই যুবক আসলে নির্দোষ ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এই ঘটনার নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছে মৌলবাদী ও দেশবিরোধী শক্তি। ভোটের ময়দানে পরাজিত হওয়ার পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হিংসায় উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পুলিশের হাতে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কল রেকর্ডিং এসেছে এবং আইন অনুযায়ী অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোনো রকম ছাড় না দেওয়ার বার্তার পরেই বিজেপির এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সিপিএম নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা দায়ের হওয়ায় বারুইপুরের জল কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সকলের। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মনে করছেন, অপরাধের বিচার হওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনই অশান্তির পিছনে থাকা কুশীলবদের খুঁজে বের করাও সমান জরুরি।


Recent Comments