পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে ফের বড় প্রশাসনিক রদবদল ঘটাল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার জারি হওয়া নির্দেশিকায় একাধিক আইপিএস ও ডব্লুবিপিএস আধিকারিকের দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই রদবদলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হল, প্রাক্তন কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে এডিজি সিআইডি পদ থেকে সরিয়ে এডিজি টেলিকম পদে পাঠানো হয়েছে।
সুপ্রতিম সরকার রাজ্যের অন্যতম পরিচিত পুলিশ আধিকারিক। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন। তবে নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাঁকে সেই পদ থেকে সরানো হয়। পরে তাঁকে সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্বাচন চলাকালীন তাঁকে তামিলনাড়ুর কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে পুলিশ অবজারভার হিসেবেও পাঠানো হয়েছিল।
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, সুপ্রতিম সরকারের পরিবর্তে সিআইডির এডিজি পদে দায়িত্ব পাচ্ছেন নটরাজন রমেশবাবু। অন্যদিকে, সুপ্রতিম সরকারকে এডিজি টেলিকম হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই শাখা মূলত রাজ্য পুলিশের ওয়্যারলেস ও টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও প্রশাসনিক গুরুত্বের বিচারে এটি সিআইডির তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বলে পুলিশ মহলে মনে করা হয়।
এদিনের রদবদলে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়েছে। আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তের দায়িত্বে থাকা ডিরেক্টর অব ইকোনমিক অফেন্স পদে আনা হয়েছে আইপিএস অফিসার কে. জয়রামনকে। এছাড়া বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার ত্রিপুরারি অথর্ভকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অমিত রাঠোরকে।
বারুইপুর পুলিশ জেলাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকি দত্তকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় অতীশ বিশ্বাসকে নিয়োগ করা হয়েছে। সম্প্রতি সূর্যপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছাতে দেরি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতেই এই বড়সড় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাজের উপরই নজর থাকবে রাজ্য প্রশাসনের।


Recent Comments