back to top
Thursday, July 16, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeসাহিত্য সংস্কৃতিRath Yatra ভক্তির টানে মহাযাত্রা! আজ শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা, পুরীর বড়দাণ্ডে জনসমুদ্র, ইতিহাস-ঐতিহ্যে...

Rath Yatra ভক্তির টানে মহাযাত্রা! আজ শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা, পুরীর বড়দাণ্ডে জনসমুদ্র, ইতিহাস-ঐতিহ্যে মোড়া প্রায় সাড়ে সাত শতাব্দীর প্রাচীন উৎসব


আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথি মানেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব—শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভক্তি, আস্থা ও ধর্মীয় আবেগে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে এই মহোৎসব। ওড়িশার পুরীর শ্রীজগন্নাথধাম থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য এবং বিশ্বের বহু দেশে রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। ভোর থেকেই পুরীর বড়দাণ্ডে লক্ষ লক্ষ ভক্তের ঢল নেমেছে। এক ঝলক প্রভুর দর্শন আর রথের দড়িতে হাত রেখে পুণ্য অর্জনের আশায় ভিড় জমিয়েছেন দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শনার্থী।

ঐতিহাসিকদের মতে, ২০২৬ সালের এই রথযাত্রা আনুমানিক ৭৫৪তম পুরী রথযাত্রা। দ্বাদশ শতকে পূর্ব গঙ্গা বংশের রাজা অনন্তবর্মণ চোড়গঙ্গদেব শ্রীজগন্নাথ মন্দির নির্মাণের সূচনা করেন। পরবর্তীকালে ত্রয়োদশ শতকে রাজা অনঙ্গভীমদেবের সময় থেকেই রাজকীয়ভাবে রথযাত্রা পালিত হতে শুরু করে। যদিও শাস্ত্র ও পুরাণে এই উৎসবের উল্লেখ আরও বহু প্রাচীন।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান জগন্নাথ হলেন শ্রীকৃষ্ণের এক বিশেষ রূপ। পুরাণে বর্ণিত রয়েছে, দেবী সুভদ্রার ইচ্ছা পূরণ করতে শ্রীকৃষ্ণ ও বলরাম তাঁকে রথে নিয়ে নগর পরিভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। সেই ঘটনাকেই স্মরণ করে প্রতিবছর রথযাত্রা পালন করা হয়। আবার আরেকটি বিশ্বাস অনুযায়ী, বছরে এই একদিন ভগবান নিজেই মন্দির থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আসেন, যাতে সব ভক্ত তাঁর দর্শনের সুযোগ পান।

রথযাত্রার দিন শ্রীমন্দির থেকে ভগবান জগন্নাথ, বড় ভাই বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রা তিনটি পৃথক সুসজ্জিত রথে চড়ে গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, গুণ্ডিচা মন্দিরই প্রভুর ‘মাসির বাড়ি’। সেখানে সাত দিন অবস্থানের পর বাহুদা যাত্রা বা উল্টো রথের মাধ্যমে দেবতারা আবার শ্রীমন্দিরে ফিরে আসেন।

রথযাত্রার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তিনটি বিশাল কাঠের রথ। ভগবান জগন্নাথের নন্দিঘোষ রথে থাকে ১৬টি চাকা, বলভদ্রের তালধ্বজ রথে ১৪টি এবং দেবী সুভদ্রার দর্পদলন (দেবদলন) রথে থাকে ১২টি চাকা। প্রতি বছর নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে নতুন কাঠ দিয়ে এই রথগুলি নির্মাণ করা হয়। শত শত দক্ষ কারিগরের কয়েক মাসের পরিশ্রমে তৈরি হয় এই তিন মহারথ।

আরো পড়ুন:  "Gen-Z" নববর্ষ:- আচার - অনুষ্ঠান - ঐতিহ্য, নাকি শুধুই "aesthetic " সোশ্যাল মিডিয়া ফিড?

রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ‘ছেড়া পাহাড়া’ অনুষ্ঠান। এই আচার অনুযায়ী ওড়িশার গজপতি মহারাজ সোনার ঝাড়ু দিয়ে তিনটি রথ পরিষ্কার করেন। ধর্মীয় দৃষ্টিতে এই অনুষ্ঠান সমতা, বিনয় ও মানবতার প্রতীক। রাজা থেকে সাধারণ মানুষ—ভগবানের সামনে সবাই সমান, এই বার্তাই তুলে ধরে এই ঐতিহ্যবাহী রীতি।

রথযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয় অনেক আগেই। অক্ষয় তৃতীয়ায় রথ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। স্নান পূর্ণিমায় দেবতাদের মহাস্নান সম্পন্ন হয়। এরপর অনবাসর পর্বে কয়েকদিন দেবতারা জনদর্শনের বাইরে থাকেন। নবযৌবন দর্শনের মাধ্যমে পুনরায় ভক্তদের দর্শন দেওয়ার পর আসে বহু প্রতীক্ষিত রথযাত্রা।

যদিও পুরীর রথযাত্রা বিশ্ববিখ্যাত, তবুও পশ্চিমবঙ্গের হুগলির মাহেশের রথযাত্রা বাংলার অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও কলকাতা, মায়াপুর, গুপ্তিপাড়া, নদিয়া, বর্ধমান, বাঁকুড়া, মালদা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রথযাত্রা উপলক্ষে মেলা, নামসংকীর্তন, পূজা ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে বর্তমানে রথযাত্রা আন্তর্জাতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। ইসকনের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, বাংলাদেশ-সহ বিশ্বের বহু দেশে একই উৎসাহে পালিত হচ্ছে শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথের দড়ি টানলে পুণ্য লাভ হয় এবং জীবনের অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটে। তাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ এই মহোৎসবে অংশ নেন। ভক্তি, ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও মানবতার অনন্য বার্তা বহন করে শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা আজও কোটি কোটি মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments