রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সরকারি লাইব্রেরিগুলির জন্য বই নির্বাচনের নীতিতে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। গ্রন্থাগার দপ্তর সূত্রে খবর, এবার থেকে উপর মহল থেকে কোনও নির্দিষ্ট বইয়ের তালিকা চাপিয়ে দেওয়া হবে না। পরিবর্তে পাঠকদের চাহিদা এবং পড়ুয়াদের প্রয়োজনের ভিত্তিতেই লাইব্রেরিগুলির জন্য বই নির্বাচন করা হবে।
সরকারি সূত্রের দাবি, আগের তৃণমূল সরকারের আমলে সরকারি লাইব্রেরি এবং স্কুল-কলেজের গ্রন্থাগারগুলিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই কেনার জন্য অঘোষিতভাবে উৎসাহিত বা বাধ্য করা হতো। নতুন সরকারের অভিযোগ, এর ফলে বহু লাইব্রেরিতে পাঠকের চাহিদা না থাকলেও বিপুল সংখ্যক বই সংগ্রহ করা হয়েছিল।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ বিষয়ে গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে লাইব্রেরির বই নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, কোনও রাজনৈতিক প্রভাব নয়, বরং পাঠকের আগ্রহ এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনই বই নির্বাচনের একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ২০০-রও বেশি বই রয়েছে। অতীতে একাধিকবার তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বই বিক্রির রয়্যালটির টাকাতেই ব্যক্তিগত খরচ চলে এবং তিনি সরকারি পেনশন নেন না।
বিজেপির একাংশের দাবি, সরকারি লাইব্রেরির মাধ্যমে বই কেনার এই প্রক্রিয়ায় কিছু লেখকের রয়্যালটি বেড়েছে, যা তারা স্বচ্ছতার পরিপন্থী বলে মনে করছে। তবে এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


Recent Comments