তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলতে থাকা মতপার্থক্য ফের প্রকাশ্যে এল প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে। সম্প্রতি দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের যদি ভবিষ্যতে আবার তৃণমূলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তবে তিনিও দল ছেড়ে দেবেন বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংগঠনিক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যে নেতারা দল ছেড়ে অন্য দলে গিয়েছেন, তাঁদের ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হলে তিনি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না। এমনকি বিষয়টি তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগেই জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের কয়েকজন নেতা ও সাংসদকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করেছে বিজেপি। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, আগামী দিনে জাতীয় স্তরে নির্বাচন সংক্রান্ত সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রভাবও এই রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
একই বৈঠকে দলের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও দলত্যাগী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, যারা তৃণমূল ছেড়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এখনও অনিশ্চিত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগেও একাধিকবার দলের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও পরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার পর তিনি সক্রিয়ভাবেই সাংগঠনিক ও আইনি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির দলত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে শাসক দল। তার মধ্যেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই স্পষ্ট অবস্থান তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর, ভবিষ্যতে দলত্যাগীদের ঘরে ফেরানো নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই সিদ্ধান্তে দলের প্রবীণ নেতাদের মতামত কতটা গুরুত্ব পায়।


Recent Comments