আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে একক ভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিল কংগ্রেস। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনেই প্রার্থী দেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেছে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি (এআইসিসি)।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির ১০, রাজাজি মার্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের সরকারি বাসভবনে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের নেতাদের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মল্লিকার্জুন খড়্গে, প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপাল, পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা গুলাম আহমেদ মীর, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী এবং সাংসদ ইশা খান চৌধুরী। রাজ্যের কয়েক জন নেতা ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন বলেও জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ নেতা একক ভাবে নির্বাচনে লড়ার পক্ষেই মত দেন। যদিও অধীর চৌধুরী বামেদের সঙ্গে জোটের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। ২০১৬ সালে বামেদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে কংগ্রেস প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেলেও, ২০২১ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস-বামফ্রন্ট-আইএসএফ জোট একটিও আসনে জয় পায়নি।
বৈঠক শেষে গুলাম আহমেদ মীর জানান, বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক শক্তি এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সকলের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে একক ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি শুরু হবে। অতীতে জোট রাজনীতির কারণে কর্মীদের একাংশ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, এ বার তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি— উভয়ের বিরুদ্ধেই নিজেদের শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে তুলে ধরাই দলের লক্ষ্য। জেলা স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করা, নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনা এবং কর্মীদের মনোবল পুনরুদ্ধার এখন দলের অগ্রাধিকার। রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী সমীকরণে কংগ্রেসের এই একক লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার, আগামী নির্বাচনে এই কৌশল কতটা ফলপ্রসূ হয়।


Recent Comments