Susmita Das: স্কুলপড়ুয়াদের হাতে আর স্মার্টফোন ও ট্যাব তুলে দেওয়া হবে না-এমনই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্কুলস্তরের পড়ুয়াদের হাতে ব্যক্তিগতভাবে স্মার্ট ডিভাইস তুলে দেওয়ার পরিবর্তে শিক্ষার মূল কাঠামো ও শ্রেণিকেন্দ্রিক পড়াশোনায় আরও জোর দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ঘিরে শিক্ষা মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, পড়াশোনার পরিবেশে অতিরিক্ত স্মার্টফোন নির্ভরতা অনেক সময় পড়ুয়াদের মনোযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ডিজিটাল শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বজায় রেখেও কীভাবে প্রযুক্তির ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর করা যায়, সেই দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্কুলে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো ব্যবহারের পাশাপাশি শিক্ষক-নির্ভর শিক্ষাদান এবং বইভিত্তিক পড়াশোনার উপরেও গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
এতদিন বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে পড়ুয়াদের ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্মার্টফোন ও ট্যাবের সাহায্যে অনলাইন ক্লাস, শিক্ষামূলক কনটেন্ট এবং ডিজিটাল পরিষেবায় পড়ুয়াদের প্রবেশাধিকার বাড়ানোই ছিল সেই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে নতুন ঘোষণায় ব্যক্তিগত ডিভাইস বিতরণের পরিবর্তে শিক্ষার গুণমান বৃদ্ধির উপর নজর দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে হলে স্কুলে পর্যাপ্ত কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল শিক্ষার পরিকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকার পড়ুয়াদের যাতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে না হয়, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর এখন নজর রয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কীভাবে এবং কোন সময়সীমায় বাস্তবায়িত হবে। পাশাপাশি, ইতিমধ্যে ডিভাইস পাওয়া পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশিকার অপেক্ষায় শিক্ষা মহল।

Recent Comments