Armaan Hossain: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে ফের বড়সড় চমক। ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান (দে)। শুক্রবার তিনি তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক আগে এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। কারণ, গত ১৩ সেপ্টেম্বর মমতা-নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির নন্দীগ্রাম আসনে সঞ্চিতা প্রধান (দে)-কে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল। ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি মনোনয়নও জমা দেন। কিন্তু মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়সীমার আগেই আচমকা নির্বাচনী ময়দান থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি।
সঞ্চিতা প্রধানের মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ওই সাক্ষাতের পরই তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের খবর সামনে আসে। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি। ফলে সাক্ষাৎ এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়ের যোগসূত্র নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
নন্দীগ্রাম এমনিতেই বাংলার রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধানসভা কেন্দ্র। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সরাসরি লড়াই এই আসনকে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় নিয়ে এসেছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই আসন থেকেই জয়ী হন। পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ায় এই উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
এর মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের মধ্যে দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং ‘ফুটবল প্লেয়ার’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, অরূপ রায় নেতৃত্বাধীন শিবিরকে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘এনভেলপ’ বা খাম প্রতীক দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে দুই শিবির আলাদা নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Recent Comments