পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের মধ্যে তৈরি হওয়া সংঘাতকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মার একটি হুঁশিয়ারি সংবলিত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই বিতর্কের সূত্রপাত।
সোমবার বিকেলে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাসভবন ও দলীয় কার্যালয়ে অতর্কিত অভিযানে যান পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা। তার সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল ফোর্স। ওই সময় জাহাঙ্গীর খান বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মার বক্তব্য অনুসারে তাঁর কাছে জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে ,জাহাঙ্গীর খান এবং তাঁর অনুগামীরা এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন।ভিডিওটিতে দেখা যায় অজয় পাল শর্মা, জাহাঙ্গীর খানের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে কড়া ভাষায় সতর্কতা জানান। তাকে বলতে শোনা যায় ” ওকে (জাহাঙ্গীর খানকে) ঠিকমতো বুঝিয়ে দেবেন—আমাদের কাছে বারবার অভিযোগ আসছে যে ওর লোকেরা হুমকি দিচ্ছে। আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। পরে যেন কাঁদতে না হয় বা অনুশোচনা করতে না হয়।”
এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের অভিযোগ, “ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাড়িতে ঢুকে পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এটা কি একজন পর্যবেক্ষকের কাজ? উনি আইসি বা এসপি-কে বলতে পারতেন।” দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে তারা আদালতে যাবে এবং নির্বাচন কমিশনেও নালিশ জানানো হবে।বিজেপির পক্ষ থেকে অজয় পাল শর্মার এই সক্রিয়তাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এই ধরনের কড়া পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল।
অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ভোটের মুখে ফলতার এই ঘটনা জেলা প্রশাসনেও শোরগোল ফেলে দিয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, নির্বাচনী আচরণবিধি এবং ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই পর্যবেক্ষকরা এই ধরনের ঝটিকা সফর করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।


Recent Comments