Susmita Das: NEET-কে ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রে ফের উঠে এসেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা NTA। দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এই সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি, গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থাকে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার নীতি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, শুধু একটি পরীক্ষার পরিচালনাগত ত্রুটি দিয়ে কি সমস্যার পুরো চিত্র ব্যাখ্যা করা সম্ভব, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বিস্তৃত প্রশাসনিক কাঠামোগত জটিলতা?
NEET-এর মতো সর্বভারতীয় পরীক্ষায় বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনতে হয়। ২০২৬ সালের NEET-এ প্রায় ২২.৭৯ লক্ষ পরীক্ষার্থী দেশের ৫৫১টি শহর ও বিদেশের ১৪টি শহরের পাঁচ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। পরীক্ষা পরিচালনায় কেন্দ্রীয় সংস্থার পাশাপাশি রাজ্য প্রশাসন, পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকেও যুক্ত করা হয়েছিল।
এই বিশাল পরিসরের ব্যবস্থাপনা নিয়েই অতিকেন্দ্রিকতার প্রশ্ন সামনে এসেছে। একটি কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে পরীক্ষা পরিচালনার বড় অংশ কেন্দ্রীভূত হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নজরদারি এক জায়গায় সমবেত হয়। অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্থানীয় পরিস্থিতি, পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা সামলাতে বহু স্তরের সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। NTA-র নিজস্ব নথিতেও বিভিন্ন রাজ্য সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ রয়েছে।
NEET-কে ঘিরে ওঠা প্রশ্ন তাই শুধু একটি পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরীক্ষা পরিচালনা, প্রযুক্তি, নজরদারি, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা—প্রতিটি স্তরের দায়িত্ব ও জবাবদিহি কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, বৃহৎ পরীক্ষাব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় মান বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় স্তরের সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
ফলে নিট-কাণ্ডে NTA-কে ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি ভারতের পরীক্ষা ও উচ্চশিক্ষা প্রশাসনের কাঠামো নিয়েও বৃহত্তর প্রশ্ন উঠছে।

Recent Comments