back to top
Monday, September 14, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeশিক্ষাসংবিধানের মূল আদর্শ ও মূল্যবোধগুলোকে রক্ষা করার বার্তা প্রাক্তন সিভিল সার্ভেন্টের

সংবিধানের মূল আদর্শ ও মূল্যবোধগুলোকে রক্ষা করার বার্তা প্রাক্তন সিভিল সার্ভেন্টের

“আজকের লড়াই হলো আমাদের সংবিধানের মূল আদর্শ ও মূল্যবোধগুলোকে রক্ষা করা। ধর্ম, ভাষা বা বাহ্যিক চেহারার ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে সহ-ভারতীয় হিসেবে দেখাটাই তোমাদের কর্তব্য।” শনিবার আলিপুর গার্লস এ‍্যান্ড বয়েজ হাই স্কুলে স্বাধীনতার ৮০-তম বছরের অনুষ্ঠানে এই বার্তা দেন বিশ্লেষক-কলম লেখক, প্রাক্তন চিফ পোস্ট মাস্টার জেনারেল গৌতম ভট্টাচার্য।

পড়ুয়াদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার তরুণ বন্ধুরা, এই দেশের ভবিষ্যৎ অভিভাবক হিসেবে আজ তোমাদের দায়িত্ব কী? স্বাধীনতার জন্য তোমাদের আর লড়াই করতে হবে না; সেই স্বাধীনতা তো আগেই অর্জিত হয়েছে। স্বাধীনতার এই ঐতিহাসিক ৮০তম দিবসে, এসো আমরা আমাদের দেশের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ সমুন্নত ও রক্ষা করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করি।

গৌতমবাবু বলেন, “এসো, আমরা মহান বাঙালি কবি অতুল প্রসাদ সেনের সেই বাণীর আলোকে জীবন গড়ি। তিনি আমাদের সহাবস্থানের এক সুন্দর মন্ত্র দিয়ে গেছেন— নানা ভাষা, নানা মত নানা পরিধান, বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান। এই যে ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’—বা ‘বিবিধের মাঝে মিলন’—তা কেবল ব্যানারে ছাপানোর মতো কোনো স্লোগান নয়। এটিই সেই প্রাণবায়ু যা ভারতকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ কিংবা প্রাত্যহিক জীবন—সর্বত্রই এই আদর্শ যেন তোমাদের চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। একে অপরের প্রতি সদয় হও, পারস্পরিক ভিন্নতাকে সম্মান করো, নিজেদের বিচিত্র সংস্কৃতিকে উদযাপন করো এবং এক মহান ও ঐক্যবদ্ধ ভারতের নাগরিক হিসেবে গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াও।”

দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর অঞ্চলের মাধ‍্যমিক/উচ্চ-মাধ‍্যমিক স্কুল বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত ইংরেজি মাধ‍্যম বেসরকারি স্কুল
আজকের প্রতিষ্ঠান নয়, ৫৮ বছর আগে স্থাপিত হয়েছিল শহরতলি অঞ্চলের নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের মধ‍্যে ইংরেজিতে শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ‍্যে। সে উদ্দেশ্য আজও বহাল। আশেপাশের অন‍্যান‍্য বেসরকারি স্কুলের তুলনায় তাই আলিপুর গার্লস এ‍্যন্ড বয়েজের টিউশন ফি অনেকটাই কম। অথচ মাধ‍্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল যথেষ্টই ভালো।

শনিবারের এক ঘন্টার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু তাতেই মন ভরে যায় উপস্থিত সকলের। স্কুলে এবারকার স্বাধীনতা দিবসের থিম ছিল “Seven States of India”। চমৎকার ভাবে পরিবেশিত হলো ভারতের সাতটি রাজ‍্যের বৈশিষ্ট‍্যমূলক নৃত‍্যানুষ্ঠান। উত্তর-পূর্বের সেভেন সিস্টার নয়। এতে পরিবেশন হ’লো আসাম, বাংলা, পঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাত, মহারাষ্ট্র ও তামিলনাডুর বিশেষ বিশেষ নৃত‍্য।

আরো পড়ুন:  স্নাতকে ফেলের বন্যা! চার বছরের ডিগ্রি কোর্সের মাঝপথেই ঐতিহাসিক নিয়ম বদল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের

যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার তত্ত্বাবধানে ছাত্রছাত্রীরা এই নৃত‍্য পরিবেশন করলো তাঁদের উৎসাহ ও আন্তরিকতা ছিল দেখবার মতো। কস্ট‍্যুম ডিজাইন থেকে শুরু করে কোরিওগ্রাফি – সবেতেই ছিল পেশাদারিত্বের ছাপ। বোঝা গেলো কেন বলা হয় AGBHS এ প্রতিটি শিক্ষক-শিক্ষিকা নামে চেনে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর! এই ভালোবাসা, এই আন্তরিকতাই স্কুলটির ইউ.এস্.পি.।

স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন পূর্ণিমা দাশগুপ্ত। বর্তমান প্রধান ইন্দ্রাশিস দাশগুপ্ত। এদিনের অনুষ্ঠানের এই সাফল‍্যের পেছনে আছে কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকার আন্তরিকতা ও নিয়মানুবর্তিতা। তাঁদের অন্যতম স্কুলের বাংলা শিক্ষিকা রেশমি চৌধুরী।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments