Susmita Das: নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ECINET-এর কার্যপ্রণালী নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের পর তা যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। শনিবারের বৈঠকে ECINET-এর আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন এক জন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার এবং এর সঙ্গে IIT বা IIIT-এর এক জন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ থাকবেন। কমিটি তাদের রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেবে।
ECINET চলতি বছরের জানুয়ারিতে চালু হয়। নির্বাচন কমিশনের দাবি, এটি একটি একীভূত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কমিশনের ৪০টিরও বেশি পুরনো অ্যাপ ও ওয়েব পরিষেবাকে এক ছাতার নীচে আনা হয়েছে। ভোটার পরিষেবা, নির্বাচনী তথ্য, ভোটের প্রবণতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ECINET-এর মাধ্যমে তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং আধিকারিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, মাঠপর্যায়ের কিছু আধিকারিকের কাজের ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকারে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, BLO, AERO, ERO, DEO এবং CEO-রা তাঁদের আইননির্ধারিত দায়িত্ব অনুযায়ী ECINET-এ ভূমিকা-ভিত্তিক প্রবেশাধিকার পান। কমিশনের বক্তব্য, ব্যবস্থাটি বিকেন্দ্রীভূত এবং আধিকারিকদের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে।
এর পাশাপাশি, SIR-এর নোটিস পাওয়া ভোটারদের ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘আনম্যাপড’ বা তথ্যের অসঙ্গতির কারণে যাঁদের নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট BLO-রা। সেই নথি ECINET-এ আপলোড করার পর ERO সিদ্ধান্ত নেবেন। সাধারণ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের ERO বা AERO দফতরে শুনানির জন্য ডাকার প্রয়োজন হবে না।
ফলে ECINET-এর প্রযুক্তিগত কাঠামো, আইনগত সামঞ্জস্য এবং মাঠপর্যায়ে তার ব্যবহার-এই তিনটি বিষয়ই এখন কমিশনের নির্ধারিত পর্যালোচনার আওতায় আসছে।

Recent Comments