দুর্গাপুজোর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। শহর থেকে জেলা—সব জায়গাতেই শুরু হয়ে গিয়েছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। তারই মধ্যে আবহাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছিল নতুন করে উদ্বেগ। মায়ানমারের কাছে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ কি পুজোর আগে ফের বাংলায় বৃষ্টির দাপট বাড়াবে? এই প্রশ্নই ঘুরছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে।
তবে আপাতত স্বস্তির খবর দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মায়ানমারে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি ইতিমধ্যেই দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। সিস্টেমটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশ, মায়ানমার, মিজোরাম, ত্রিপুরা এবং সংলগ্ন এলাকার দিকে সরে যাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সেটি আরও দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলে এই নিম্নচাপের কারণে বাংলায় আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনও আশঙ্কা নেই। অর্থাৎ পুজোর আগে নিম্নচাপ নিয়ে যে বড়সড় দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, আপাতত তেমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে না।
তবে পুরোপুরি বৃষ্টিমুক্ত থাকবে না রাজ্য। বুধবার দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। মূলত আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনাই বেশি। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। কলকাতাতেও এই দু’দিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দু-এক পশলা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এরপর শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। তবে বৃষ্টি কমলেও ভ্যাপসা গরম থেকে রেহাই মিলবে না। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে। বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬০ থেকে ৯৬ শতাংশের মধ্যে।
উত্তরবঙ্গেও আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনও সতর্কতা নেই। বুধবার বৃষ্টির সম্ভাবনা সামান্য। তবে বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত দার্জিলিং-সহ উত্তরবঙ্গের উপরের দিকের পাঁচ জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। সোমবার থেকে সেখানেও বৃষ্টির পরিমাণ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, মায়ানমার ও বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। তবে বাংলার উপকূলের মৎস্যজীবীদের জন্য আলাদা কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি। বুধবার উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র এবং বাংলাদেশ উপকূলের দিকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে পুজোর মুখে বড়সড় দুর্যোগের আশঙ্কা আপাতত নেই। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কিছুটা বৃষ্টি হলেও তার পর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক থাকার পূর্বাভাস। ফলে পুজোর কেনাকাটা বা অন্যান্য প্রস্তুতিতে বড়সড় বাধা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে মেঘলা আকাশ, বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং ভ্যাপসা গরমের জন্য বাইরে বেরোলে ছাতা সঙ্গে রাখাই ভালো।


Recent Comments