তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে কালীঘাটে তাঁর বাড়ির সামনে তৈরি হওয়া উত্তেজনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। শুক্রবার গভীর রাতে অভিষেকের বাড়ির সামনে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে অভিষেকের বাড়ির সামনে পৌঁছে কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি। একই সঙ্গে কালীঘাট থানার পুলিশ বাধা দিলে কালীঘাট মন্দিরের সামনেই পুজো করার হুঁশিয়ারিও দেন।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর কালীঘাটের বাড়ির সামনে শুভেচ্ছা জানাতে জড়ো হয়েছিলেন অনুগামী ও দলীয় কর্মীরা। অভিযোগ, গভীর রাতে সেখানে বিজেপি কর্মীদের একটি দল পৌঁছে স্লোগান দিতে শুরু করে। এরপর দু’পক্ষের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা তাঁদের সমর্থকদের উপর হামলা চালানোর পাশাপাশি বাড়ির সামনে থাকা ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনার পর থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই কালীঘাট এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
শনিবার বিকেলে অভিষেকের বাড়ির সামনে পৌঁছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা ও মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে। পুলিশ নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি পুলিশের ভূমিকার জন্য কলকাতা পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগও দাবি করেন মমতা।
এদিন কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীকেও নিশানা করেন তিনি। মমতার বক্তব্য, রাজ্যে মহিলাদের উপর হামলা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের অবনতি নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ করা উচিত। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণেই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের নিশানা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশকে রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবর্তে দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মনোযোগ দেওয়ার বার্তা দেন তিনি।
কালীঘাট থানার ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনার বিষয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা প্রয়োজন। তবে থানার পুলিশ যদি অভিযোগ গ্রহণে বা পরবর্তী পদক্ষেপে বাধা দেয়, তাহলে তিনি কালীঘাট মন্দিরের সামনেই রাস্তায় পুজো করবেন। তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, কালীঘাটের এই সংঘর্ষের ঘটনায় রাজনৈতিক বিভেদ সরিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর মতে, কারও জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করে যদি হামলার ঘটনা ঘটে, তা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, এই ধরনের হিংসাত্মক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরোধিতা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘর্ষের অভিযোগ এখন রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। একদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ, অন্যদিকে অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক হিংসার প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে কালীঘাটের ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত। আগামী দিনে এই ঘটনায় পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


Recent Comments