ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা রক্ষায় বুথ লেভেল অফিসারদের ভূমিকার প্রশংসা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের নির্বাচনী শিক্ষায় উৎসাহ দিতে ELC 2.0-কে সামনে রেখে নতুন বার্তা নির্বাচন কমিশনের।
গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে একদিকে মাঠপর্যায়ের নির্বাচনকর্মীদের ভূমিকা, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গণতান্ত্রিক সচেতনতা— এই দুই বিষয়কেই বিশেষ গুরুত্ব দিল নির্বাচন কমিশন। দুই দিনের গোয়া সফরে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের উদ্দেশেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, গোয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এক হাজারেরও বেশি বুথ লেভেল অফিসারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তাঁদের উদ্দেশে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, নির্বাচন কমিশন এবং সাধারণ নাগরিকের মধ্যে প্রথম সারির যোগাযোগের মাধ্যম হলেন BLO-রা। ভোটার তালিকা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে মানুষের সংযোগ বজায় রাখতেও তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের মতো বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে নির্বাচন পরিচালনা এবং ভোটার তালিকা প্রস্তুতির কাজ সংবিধান, আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলির নিযুক্ত বুথ লেভেল এজেন্ট এবং প্রার্থীদের পোলিং ও কাউন্টিং এজেন্টদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
গোয়ার বুথ লেভেল অফিসারদের কাজের প্রশংসা করে জ্ঞানেশ কুমার জানান, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় তাঁদের অবদান উল্লেখযোগ্য। কর্মসূচিতে BLO-দের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বেও অংশ নেন তিনি। সেখানে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা ও সংশয় নিয়ে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ পান কর্মীরা।
তবে শুধু নির্বাচনী কর্মীদের মধ্যেই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ রাখেনি কমিশন। আগামী দিনের ভোটারদের গণতন্ত্র সম্পর্কে আরও সচেতন করে তুলতেও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই গোয়ায় নির্বাচন কমিশনের চতুর্থ আঞ্চলিক সম্মেলনে গুরুত্ব দেওয়া হয় ‘ইলেক্টোরাল লিটারেসি ক্লাব ২.০’ বা ELC 2.0 এবং ECINet উদ্যোগকে।
স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় জ্ঞানেশ কুমার বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তরুণ প্রজন্মের উপর। তাই শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার অধিকার সম্পর্কে জানলেই হবে না, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পর্কেও যুব সমাজকে সচেতন হতে হবে।
Learn Democracy. Lead Democracy.’ স্লোগানকে সামনে রেখে ELC 2.0-এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে নির্বাচনী শিক্ষাকে আরও সুসংগঠিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণ এবং প্রথমবারের ভোটারদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অর্থবহ অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৫ লক্ষ স্কুলে প্রায় ২৫ কোটি পড়ুয়া এবং এক কোটিরও বেশি শিক্ষক রয়েছেন। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে রয়েছে প্রায় ১,৫০০ বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই বিশাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়েই দেশজুড়ে নির্বাচনী সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ELC 2.0-এর আওতায় ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করা, ভোটদান, ভোটগণনা এবং ECINet অ্যাপসহ নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পরিষেবা সম্পর্কে যুব সমাজকে তথ্য দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তরুণদের শুধু সচেতন ভোটার হিসেবে নয়, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রচারক হিসেবেও গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে কমিশন।
গোয়া সফরে জ্ঞানেশ কুমারের এই দুই কর্মসূচি কার্যত একটি বিষয়ই স্পষ্ট করে দিল— শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়ে তুলতে যেমন বুথ স্তরে দায়িত্ব পালন করা কর্মীদের ভূমিকা অপরিহার্য, তেমনই আগামী প্রজন্মকে নির্বাচন ও গণতন্ত্র সম্পর্কে সচেতন করে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মাঠপর্যায়ের BLO থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের পড়ুয়া— সকলের অংশগ্রহণেই আরও শক্ত ভিত পাবে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।


Recent Comments