back to top
Monday, August 17, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeকলকাতানরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে মর্মান্তিক মৃত্যু! গরম চা পান করার পর দ্বাদশ শ্রেণির...

নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে মর্মান্তিক মৃত্যু! গরম চা পান করার পর দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের প্রাণহানি, অবহেলার অভিযোগে তোলপাড়

নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ে এক মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র দীপ্তাংশু মাহাতো গরম চা পান করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই ঘটনাকে ঘিরে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে মৃত ছাত্রের পরিবার। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ে এক শিক্ষকের জন্য নিয়ে যাওয়া ফ্লাস্ক থেকে দীপ্তাংশু গরম চা পান করে। অত্যন্ত গরম চা সরাসরি গলায় চলে যাওয়ায় সে সঙ্গে সঙ্গেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। কথা বলতে এবং খাবার গিলতে তার সমস্যা শুরু হয়। সহপাঠীরা তাকে প্রথমে হোস্টেলের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দ্রুত বাইরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

অভিযোগ, চিকিৎসকের সেই পরামর্শ সত্ত্বেও দীপ্তাংশুকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় হোস্টেলেই রাখা হয়। এদিকে খবর দেওয়া হয় তার বাবা মনোরঞ্জন মাহাতোকে। তিনি বিদ্যালয়ে পৌঁছতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। ততক্ষণে ছাত্রের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয় এবং মুখ দিয়ে রক্ত বেরোতে শুরু করে।

এরপর তাকে প্রথমে মহামায়াতলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। কিন্তু বাইপাসের ধারে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় দীপ্তাংশুর।

মৃত ছাত্রের বাবা, যিনি পেশায় কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী, অভিযোগ করেছেন যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সময়মতো জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে তাঁর ছেলের জীবন হয়তো বাঁচানো সম্ভব ছিল। তাঁর দাবি, ঘটনার পর দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি না করিয়ে অযথা দেরি করা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদেরও সঙ্গে সঙ্গে জানানো হয়নি।

এই ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বামী ইশতেশানন্দ পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি গাফিলতির অভিযোগে তিনজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আরো পড়ুন:  'বন্দে মাতরম' গাওয়ার সরকারি নির্দেশিকা ঘিরে জনস্বার্থ মামলা, আবেদনকারীর কাছে ভিত্তি জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের একাংশ বিদ্যালয়ের হোস্টেল পরিচালনা ও ছাত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এনেছেন। কিছু অভিভাবক হোস্টেলের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক এবং মিশনের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে দীপ্তাংশুর সহপাঠীরা দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। নরেন্দ্রপুর থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে মৃত ছাত্রের পরিবার, সহপাঠী এবং সাধারণ মানুষ।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments