সল্টলেক তথা বিধাননগর পুররাজনীতিতে বড়সড় রদবদল। বিধাননগর পুরনিগমের (Bidhannagar Municipal Corporation) মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী (Krishna Chakraborty)। দীর্ঘদিনের পুরপ্রধান এবং সল্টলেকের রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ কৃষ্ণাদেবীর এই আচমকা পদত্যাগের পরেই প্রশাসনিক স্তরে তুমুল তৎপরতা শুরু হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরেই পুরবোর্ডের এই পরিবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন।
সূত্রের খবর, মেয়রের ইস্তফাপত্র জমা পড়ার পর রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের (Municipal Affairs Department) পক্ষ থেকে বিধাননগর পুরনিগম পরিচালনার জন্য দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নতুন বোর্ড গঠন বা মেয়র নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত পুরনিগমের দৈনন্দিন কাজ সচল রাখতে একজন উচ্চপদস্থ আমলাকে পুর প্রশাসক বা কমিশনার (Commissioner) হিসেবে নিয়োগ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।
লোকসভা ভোটের ফলের জের?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের ফলের রেশ এসে পড়েছে বিধাননগরের পুর প্রশাসনে। সল্টলেক এবং রাজারহাট-নিউটাউন (Rajarhat-Newtown) এলাকার বেশ কিছু ওয়ার্ডে শাসকদলের ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন বা আশানুরূপ ফল না হওয়ার কারণেই এই রদবদল বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও দলের বা কৃষ্ণাদেবীর তরফ থেকে এটিকে একটি রুটিন সাংগঠনিক বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলেই দাবি করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক অলিন্দে জল্পনা, বিধাননগরের নাগরিক পরিষেবা আরও গতিশীল করতে এবং জনসংযোগ বাড়াতে শীর্ষ নেতৃত্ব নতুন কাউকে মেয়রের ব্যাটন তুলে দিতে চাইছে।
প্রশাসকের হাতে যাচ্ছে সল্টলেকের রাশ
নিয়ম অনুযায়ী, মেয়রের পদত্যাগের পর পুরো পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। নাগরিকরা যাতে জল নিকাশি, আবর্জনা সাফাই, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র বা কর জমা দেওয়ার মতো জরুরি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য রাজ্য সরকার অবিলম্বে বিধাননগরে প্রশাসক বসাচ্ছে। নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর, কোনো একজন দক্ষ IAS আধিকারিককে এই অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, যিনি পুরনিগমের সমস্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক ফাইলের তদারকি করবেন।
বিধাননগরের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
বাম জমানার শেষ লগ্নে বিধাননগর পুরসভা গঠিত হওয়ার পর থেকেই সল্টলেকের কাউন্সিলর এবং পরবর্তীকালে বিধাননগর যখন পুরনিগমে উন্নীত হয়, তখন থেকেই প্রথম সারির নেত্রী হিসেবে কাজ করেছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। সব্যসাচী দত্তের (Sabyasachi Dutta) পর তিনিই মেয়রের চেয়ার সামলেছেন। দীর্ঘদিনের এই জমানার অবসানে স্বভাবতই বিধাননগরের অলিতে-গলিতে এখন একটাই প্রশ্ন— কে হতে চলেছেন সল্টলেকের পরবর্তী মহানাগরিক? নাকি আগামী কয়েক মাস আমলাতন্ত্রের হাত ধরেই চলবে বিধাননগরের পুর পরিষেবা? আপাতত রাজ্য সরকারের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকেই তাকিয়ে শহরবাসী।


Recent Comments