ভোটের পরবর্তী সময় থেকেই রাজ্য রাজনীতির অন্দরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতার জল্পনা তুঙ্গে। বিধানসভার পর এবার সংসদের অন্দরেও বড়সড় ভাঙনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের খবর। এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচমকা দিল্লি সফর নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। দলীয় সূত্রে খবর, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তিনি তড়িঘড়ি জাতীয় রাজধানীতে উড়ে গিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভায় তৃণমূলের অন্দরে ‘অপারেশন লোটাস’ শুরু হতে পারে এমন গুঞ্জনই বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু। শোনা যাচ্ছে, প্রায় ১৮ থেকে ১৯ জন সাংসদ দল ছাড়ার পথে রয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একটি ‘নতুন তৃণমূল’ আত্মপ্রকাশ করতে পারে। দলবদল বিরোধী আইন এড়াতে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদকে নিয়ে এই ভাঙন ঘটানোর ছক কষা হয়েছে বলেই সূত্রের দাবি।
উল্লেখ্য, বিধানসভার ক্ষেত্রেও এরই মধ্যে তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের দুই-তৃতীয়াংশ দল ভেঙে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে ঘোষণা করে প্রধান বিরোধী দলের তকমা আদায় করে নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে অভিষেকের দিল্লি সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।দিল্লি সফরের সময়সূচী নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আগামী ৮ জুন, সোমবার বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে অভিষেকের যাওয়ার কথা ছিল।
এর পাশাপাশি আরও একটি জল্পনা দানা বেঁধেছে সিআইডি-র তলব ঘিরে। সই জালিয়াতির অভিযোগে আগামী ৮ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সিআইডি। এর আগে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি ১০ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করলেও, রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। সোমবারেও তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে অভিষেকের এই আকস্মিক দিল্লি সফর ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন শোরগোল।


Recent Comments