অশোক সেনগুপ্ত
“আজ আমাদের এমন অবস্থা যে বাইরের রাজ্য থেকে বিচারপতি আনতে হচ্ছে। সবার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্বও কমিশনকে নিতে হবে। ভয়মুক্ত পরিবেশে সবাই কাজ করতে পারবে সেটাই আমরা চাই।” মঙ্গলবার এই মন্তব্য করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
“রাজ্যের আইএএস, আইপিএসদেরও নীতি ও দায়বদ্ধতা আছে। আমাদের দাবি যত দ্রুত শেষ করা যায়।” এই মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ভারতবর্ষের প্রতি প্রান্তে যদি নির্বিঘ্নে এসআইআর হতে পারে তাহলে এই রাজ্যে নয় কেন? ডেটা এন্ট্রি অপারেটর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত পুরো এসআইআর প্রক্রিয়া বিপর্যস্ত করছে তৃণমূল। এই তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ১৫ বছরেও রাজ্য সরকার হয়ে উঠতে পারেনি।”
তিনি বলেন, “বিভিন্ন জেলা কোর্টে জামিন না দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বিচারপতিদের। মিথ্যা মামলায় হেনস্থা করা হচ্ছে রাজ্যবাসীকে। এখনো পর্যন্ত চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এসডিও, বিডিওদের উপর। এটা লুটের রাজ্য নয়। আমাদের অবস্থান খুব স্পষ্ট। ৮০ দিন লাগুক বা ১৮০ দিন – এসআইআর সম্পূর্ণ করতেই হবে। ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা আমাদের উপহার দিতে হবে।
শমীকবাবু বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব নিয়ে পুরো ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা বানাতে হবে। এটা পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন কমিশন নয়। এটা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। এই রাজ্যে প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র মিনাদেবী পুরোহিতের উপর হামলা হলেও রাজ্য কমিশন সেই ঘটনা অস্বীকার করে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে হামলা, সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটলেও তারা অস্বীকার করেছে।
কিন্তু তারপরও বিজেপি ১১ হাজারের বেশি আসনে জিতেছে পঞ্চায়েত নির্বাচনে। যারা খুন, সন্ত্রাস করে মনে করেছিলেন এই রাজ্য থেকে বিজেপিকে তুলে দেবে তারা পারেনি। তৃণমূল কংগ্রেস বামেদের সন্ত্রাসের রাজনীতিকে বাড়িয়েছে। কিন্তু বর্তমানে যেটা হচ্ছে তাতে সারা দেশের সামনে আমাদের রাজ্যের মুখ পুড়ছে।
আমাদের বক্তব্য এসআইআর না হলে ভোট নয়। আমাদের প্রতিটি অভিযোগকে গ্রহণ করতে হবে। যে দলই অভিযোগ আনুক বা কোনও সাধারণ মানুষ দিলেও সেই অভিযোগ গ্রহণ করতে হবে।
আমরা অনুরোধ করব জ্ঞানেশ কুমারের কলকাতা আসার প্রয়োজন আছে। তিনি নিজে এসে মুর্শিদাবাদ, ডোমকোল, দক্ষিণ ২৪ পরগণা দেখুন। চাক্ষুষ দেখা দরকার তাঁর। কমিশনের কাছে আবেদন এবং দাবি শেষ অভিযোগপত্র পর্যন্ত শুনানি করতে হবে। এই রাজ্যে সম্পূর্ণ করতেই হবে।

