back to top
Wednesday, April 29, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
HomeবিবিধOdisha bank skeleton incident: মৃত বোনের জমানো টাকা তুলতে কঙ্কাল কাঁধে ব্যাঙ্কে...

Odisha bank skeleton incident: মৃত বোনের জমানো টাকা তুলতে কঙ্কাল কাঁধে ব্যাঙ্কে হাজির ভাই! ওড়িশার ঘটনায় শিউরে উঠল দেশ

ব্যাঙ্কের নিয়মকানুনের যাঁতাকলে পড়ে সাধারণ মানুষকে প্রায়শই হয়রানির শিকার হতে হয়। কিন্তু সেই হয়রানি যে কতটা চরম ও মর্মান্তিক পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, তার এক জ্বলন্ত ও শিউরে ওঠা উদাহরণ হয়ে রইল ওড়িশা। মৃত বোনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে গচ্ছিত টাকা তুলতে না পেরে শেষমেশ তাঁর কবর খুঁড়ে কঙ্কাল বের করে সোজা ব্যাঙ্কে হাজির হলেন এক অসহায় ভাই। সোমবার এই অভাবনীয় ঘটনাটি ঘটেছে কেওনঝড় জেলার পাটনা (Patana) ব্লকের মালিপোসি (Maliposi) গ্রামে। এই ঘটনায় যেমন একদিকে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার চরম অসংবেদনশীলতা প্রকট হয়েছে, তেমনই গ্রামীণ ভারতের নিরক্ষরতা ও অসহায়তার ছবিটাও সামনে এসেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেওনঝড় জেলার দিয়ানালি (Dianali) গ্রামের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী জিতু মুণ্ডা (Jeetu Munda)। তাঁর ৫৬ বছর বয়সী বড় বোন কালরা মুণ্ডা (Kalra Munda) চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি মারা যান। কালরার ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের (Odisha Grameen Bank) মালিপোসি শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট ছিল, যেখানে প্রায় ২০,০০০ টাকা জমা ছিল। বোন মারা যাওয়ার পর, অত্যন্ত দরিদ্র এই আদিবাসী মানুষটি সেই জমানো টাকা তোলার জন্য বারবার ব্যাঙ্কে যাতায়াত করতে শুরু করেন।

অভিযোগ, জিতু যতবারই ব্যাঙ্কে যেতেন, ব্যাঙ্ক কর্মীরা তাঁকে সাফ জানিয়ে দিতেন যে টাকা তুলতে হলে খোদ অ্যাকাউন্ট হোল্ডার বা আমানতকারীকে সশরীরে ব্যাঙ্কে উপস্থিত হতে হবে। জিতু বারবার তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তাঁর বোন মারা গিয়েছেন, তাই তাঁর পক্ষে আসা সম্ভব নয়। কিন্তু অশিক্ষিত এই মানুষটির কথায় কান দেননি আধিকারিকরা। তাঁরা ক্রমাগত তাঁকে নির্দেশ দেন বোনের মৃত্যুর সঠিক প্রমাণ বা খোদ বোনকে নিয়ে আসতে।

দিনের পর দিন ব্যাঙ্কের এই একগুঁয়েমি আর নিয়মের ফাঁসে পড়ে জিতু চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা যখন তাঁর বোনের মৃত্যুর কথা কিছুতেই বিশ্বাস করছিলেন না, তখন নিরুপায় হয়ে এক চরম পথ বেছে নেন তিনি। তিনি সোজা চলে যান গোরস্থানে, যেখানে তাঁর বোনকে সমাহিত করা হয়েছিল। এরপর নিজের হাতে বোনের কবর খুঁড়ে তাঁর কঙ্কালটি বের করে আনেন। সেই কঙ্কাল কাঁধে করে সোজা নিয়ে হাজির হন ব্যাঙ্কের শাখায়।

আরো পড়ুন:  Weather Update: কালবৈশাখীর সতর্কতা দক্ষিণবঙ্গে! কলকাতায় কত বেগে ঝড়? দুর্যোগ কোথায় কতটা? চলবেই বা কত দিন

ব্যাঙ্কের ভেতর কঙ্কাল নিয়ে এক ব্যক্তিকে ঢুকতে দেখে উপস্থিত গ্রাহক ও কর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জিতু তখন ব্যাঙ্ক কর্মীদের উদ্দেশে বলেন যে তারা প্রমাণ চাইছিল, তাই তিনি প্রমাণ নিয়ে এসেছেন। এই দৃশ্য দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে যান সকলে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পাটনা থানার ইন্সপেক্টর ইন-চার্জ বা আইআইসি (IIC) কিরণ প্রসাদ সাহু (Kiran Prasad Sahu)। তিনি জিতুকে শান্ত করেন এবং পুরো বিষয়টি গভীরভাবে শোনার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ আধিকারিক গণমাধ্যমকে জানান, “জিতু একজন অত্যন্ত সহজ-সরল এবং নিরক্ষর আদিবাসী মানুষ। ব্যাঙ্কের ‘নমিনী’ (Nominee) বা ‘লিগ্যাল হেয়ার’ (Legal Heir) সার্টিফিকেটের মতো জটিল আইনি নিয়মগুলি বোঝার ক্ষমতা তাঁর নেই। ব্যাঙ্ক আধিকারিকরাও একজন মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার সঠিক পদ্ধতি তাঁকে সহজভাবে বোঝাতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন।”

এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার বা বিডিও (BDO) মানস দণ্ডপাট (Manas Dandpat) জানান, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং তিনি ঘটনার দিনই এই বিষয়ে জানতে পেরেছেন। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

জানা গিয়েছে, কালরা মুণ্ডার অ্যাকাউন্টে যে নমিনী ছিলেন, তিনিও আগেই মারা গিয়েছেন। ফলে নিয়মানুযায়ী জিতু মুণ্ডাই এখন ওই টাকার একমাত্র বৈধ দাবিদার। পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জিতুকে তাঁর প্রাপ্য টাকা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে পুলিশের উপস্থিতিতে এবং প্রশাসনিক সহায়তায় জিতু পুনরায় সেই কঙ্কাল নিয়ে গিয়ে সসম্মানে সমাধিস্থ করেন। তবে এই ঘটনাটি ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে ব্যাঙ্কিং পরিষেবার প্রচারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্ধকার বাস্তবকে তুলে ধরেছে। গ্রামীণ এবং আদিবাসী এলাকাগুলোতে আর্থিক সাক্ষরতার অভাব কতটা প্রকট, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। একজন গরিব মানুষকে নিজের অধিকার পাওয়ার জন্য যদি বোনের কঙ্কাল খুঁড়ে আনতে হয়, তবে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক মানবিকতা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, তা নিয়ে একটা বড় প্রশ্ন থেকেই যায়।

আরো পড়ুন:  ১২৯তম ‘কলকাতা প্রত্যাবর্তন দিবস’: স্বামীজির স্মৃতিতে বজবজ থেকে শিয়ালদহ ছুটবে বিশেষ ট্রেন

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments