পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মাঝে বড়সড় বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। শেষ পর্যন্ত গুরুতর অনিয়ম ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে—যা সাম্প্রতিক কালে রাজ্যে প্রায় নজিরবিহীন।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভোটে একাধিক বুথে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ, ইভিএমে কারচুপি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে কিছু বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ থাকা, ইভিএমে টেপ লাগিয়ে প্রতীক ঢেকে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
অভিযোগ, এই পরিস্থিতির মধ্যেই অনেক বুথে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে যায়, যা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।প্রথমে কয়েকটি বুথে পুনর্নির্বাচনের প্রস্তাব উঠলেও, বিস্তারিত তদন্ত ও রিপোর্টের ভিত্তিতে কমিশন শেষ পর্যন্ত পুরো কেন্দ্রেই পুনর্ভোটের সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫টি বুথে আবার ভোটগ্রহণ হবে।
অন্যদিকে, রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনে ভোটগণনা নির্ধারিত সময়েই, অর্থাৎ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে।ফলতাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও তুঙ্গে। ভোটের দিন থেকেই বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, মারধর ও ভোটে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে হাশিমনগর এলাকায় অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পাল্টা অভিযোগও করেছে শাসকদল তৃণমূল।
এই পরিস্থিতিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এদিকে ভোটগণনাকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হচ্ছে গণনাকেন্দ্রগুলি, মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রতিটি কেন্দ্রে কিউআর কোড-যুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পাশাপাশি গণনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ২৪২ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন।সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট, তারপর ধাপে ধাপে ইভিএমের ভোট গোনা হবে। দুপুরের মধ্যেই প্রাথমিক ফলাফলের ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

Recent Comments