স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা এবং পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা কারচুপির অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নিয়ম মেনেই সমস্ত কাজ করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলিকে আগে থেকেই এই বিষয়ে ইমেল মারফত অবহিত করা হয়েছিল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
সম্প্রতি কলকাতার স্ট্রংরুম সংলগ্ন এলাকায় (বিশেষত ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র) সন্দেহজনক গতিবিধি এবং নিয়ম না মেনে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজ হওয়ার অভিযোগ তোলে তৃণমূল।
এই ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা ধর্নাতেও বসেন। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্ট্রংরুম পরিদর্শনে যান এবং দলের প্রার্থীদের রাত জেগে পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন।সিইও দফতরের বক্তব্য ও তৃণমূলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন দ্রুত এবং কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। তাদের ব্যাখ্যার মূল দিকগুলি ।
কমিশনের দাবি, সংশ্লিষ্ট বিধানসভাগুলির রিটার্নিং অফিসারেরা পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণ সংক্রান্ত কাজের বিষয়ে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের আগেই ইমেলের মাধ্যমে জানিয়েছিলেন।ব্যালটের পৃথকীকরণের কাজ বিকেল ৪টে থেকে ভোটগ্রহণকৃত কক্ষগুলির করিডরে চলছিল। কোনও গোপনীয়তা বা নিয়মভঙ্গ সেখানে হয়নি।
সিইও দফতরের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট—সব দলকে ইমেল করে নির্দিষ্ট সময়ে আসার কথা জানানোর পরেও যদি কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত না থাকেন, তবে তার জন্য নির্বাচন কমিশনের রুটিন কাজ বন্ধ থাকতে পারে না।কমিশনের এই বিস্তারিত ব্যাখ্যার পর, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে থেকে ধর্না তুলে নেন কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা। নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে যে, স্ট্রংরুমগুলি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে এবং সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ইভিএম রাখা আছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেও কমিশনের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।


Recent Comments