back to top
Monday, August 24, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতিসব্যসাচী দত্তের ফ্ল্যাটে তল্লাশি: উদ্ধার বিপুল পরিমাণ সোনা কেনার রশিদ, উঠছে আয়ের...

সব্যসাচী দত্তের ফ্ল্যাটে তল্লাশি: উদ্ধার বিপুল পরিমাণ সোনা কেনার রশিদ, উঠছে আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

একসময়ের দাপুটে নেতা, এখন তোলাবাজির অভিযোগে শ্রীঘরে। বিধাননগরের (Bidhannagar) প্রাক্তন মেয়র ও তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) নেতা সব্যসাচী দত্তকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন তোলপাড় চলছে। সম্প্রতি এক ব্যবসায়ীকে হুমকি ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর, রবিবার তাঁকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। আর এই তল্লাশি অভিযানেই তদন্তকারীদের হাতে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।

রাজারহাটের (Rajarhat) এক বিলাসবহুল আবাসনে সব্যসাচী দত্তের দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, টানা সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সেখানে ম্যারাথন তল্লাশি চালানো হয়। শুধু ফ্ল্যাট নয়, এদিন পুলিশ তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল তাঁর ওয়ার্ড অফিস এবং স্থানীয় একটি ক্লাবেও। পুলিশি তল্লাশিতে সব্যসাচীর ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে রাশি রাশি সোনা কেনার রশিদ।

আর এই নথিপত্র হাতে আসার পরেই তদন্তকারীদের মনে বড়সড় প্রশ্ন জেগেছে—একজন জনপ্রতিনিধির আয়ের উৎস কি সত্যিই এত বিপুল পরিমাণ সোনা কেনার মতো?তদন্তে নেমে পুলিশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও বাজেয়াপ্ত করেছে। জানা গেছে, সব্যসাচী দত্তের এই ফ্ল্যাটে থাকতে গেলে নিয়মিত যে খরচের প্রয়োজন, তার বৈধ কোনো আয়ের উৎস আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশের দাবি, তল্লাশি অভিযানের সময় সব্যসাচী দত্তের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সদুত্তর মেলেনি। উল্টে, মৈত্রী সংঘ ক্লাবের চাবি না পাওয়া বা ভুল জায়গায় পুলিশকে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা তদন্তে বাধা সৃষ্টিরই শামিল বলে মনে করা হচ্ছে। পরে অবশ্য পুলিশি তৎপরতায় তালা ভেঙে ক্লাবে তল্লাশি চালানো হয়।উল্লেখ্য যে, গত ৯ জুন গভীর রাতে রাজারহাটের রাইগাছি (Raigachhi) এলাকার আবাসন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযোগ, ২০১৮ সালে সব্যসাচী দত্ত এক সল্টলেক (Salt Lake) নিবাসী ব্যবসায়ী মধুসূদন চক্রবর্তীর কাছে ১ কোটি টাকার বেশি তোলা দাবি করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ওই ব্যবসায়ীকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও গ্রেফতারির পর থেকে সব্যসাচী দত্ত এই সমস্ত অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও সাজানো’ বলে দাবি করে আসছেন। তাঁর আইনজীবীদের পক্ষ থেকেও এই গ্রেফতারির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

আরো পড়ুন:  সব্যসাচীর ওয়ার্ড অফিসে পুলিশের তল্লাশি, দফতর থেকে বেরোতেই বিক্ষোভের মুখে নেতা

এদিকে, সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণকে ঘিরে স্থানীয় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের একাংশ মনে করছে, দলের ভেতরে সুযোগসন্ধানীদের এই দৌরাত্ম্য দলকেই অস্বস্তিতে ফেলেছে। অপরদিকে, পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সব্যসাচী দত্তের বয়ানে অনেক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। মামলার তদন্তকারী আধিকারিকরা এখন উদ্ধার হওয়া নথিপত্র ও সোনা কেনার রসিদগুলো খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি তাঁর সম্পত্তির প্রকৃত উৎস সন্ধানে ফরেনসিক অডিট বা আয়কর দপ্তরের সাহায্য নেওয়া হতে পারে কি না, সে নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments