ঐতিহ্যের শহর কলকাতার বুকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো বড়বাজার (Burrabazar) এলাকার পার্সি ফায়ার টেম্পল (Parsi Fire Temple)। দীর্ঘদিনের অবহেলা আর গত বছরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দগদগে ক্ষত নিয়ে টিকে থাকা এই স্থাপত্যটি এবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে চলেছে। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) এই মন্দির চত্বরটিকে দখলমুক্ত করার এবং এর দ্রুত সংস্কারের জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে নতুন করে আশার আলো দেখছেন শহরবাসী।
এক মাসের মধ্যেই উচ্ছেদের নির্দেশ
আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে এই মন্দির সংলগ্ন এলাকার সমস্ত হকারদের সরিয়ে ফেলতে হবে। কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation), কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police) এবং হেরিটেজ কমিশনকে (Heritage Commission) যৌথভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে যে, ঐতিহ্যের কোনো ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না। মন্দির চত্বরে যে সমস্ত অবৈধ দখলদাররা ঘাঁটি গেড়ে বসেছে, তাদের অবিলম্বে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে হোক অথবা উচ্ছেদ করে হোক, পুরো এলাকাটি দ্রুত ফাঁকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন জরুরি এই সংস্কার?
গত বছর অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ফায়ার টেম্পলটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শুধু স্থাপত্যের ক্ষতি নয়, এর পবিত্রতা এবং নিরাপত্তা নিয়েও বারবার প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, মন্দিরের গা ঘেঁষে হকারদের সারি এবং অবৈধ দোকানপাটের কারণে দমকলের গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছানো দুষ্কর হয়ে পড়েছিল। এখন আদালতের নির্দেশে একদিকে যেমন হকার উচ্ছেদ হবে, অন্যদিকে হেরিটেজ কমিশনের তদারকিতে মন্দিরের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সংস্কারের কাজও শুরু হবে।
প্রশাসনের ভূমিকা ও স্বচ্ছতা
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এই এক মাস সময়সীমার মধ্যে পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকদের নিয়মিত পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে যাতে নতুন করে আর কোনো অবৈধ কাঠামো মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। হেরিটেজ কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ণ রেখে কীভাবে একে সুরক্ষিত করা যায়, তার একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
শহরের ঐতিহ্যের প্রশ্নে আপোষহীন অবস্থান
কলকাতা শহর তার পুরনো ইতিহাসের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত। কিন্তু আধুনিক শহরের ভিড় আর যত্রতত্র দখলের কারণে অনেক প্রাচীন স্থাপত্যই আজ বিলুপ্তির পথে। আদালতের এই সাম্প্রতিক রায়টি অন্যান্য হেরিটেজ সাইটগুলোর ক্ষেত্রেও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন নাগরিক সমাজ। আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে শহরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সুরক্ষিত রাখাই এখন মূল লক্ষ্য।


Recent Comments