নিজস্ব সংবাদদাতা: ফলতা পুনর্নির্বাচনের আগে বড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ২৬ মে পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে এই সুরক্ষার সঙ্গে একাধিক শর্তও বেঁধে দিয়েছে আদালত। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে জাহাঙ্গির খানকে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে এবং ভোটারদের কোনওভাবেই প্রভাবিত করা যাবে না। বিতর্কিত মন্তব্য থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
প্রসঙ্গত, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বুথ দখল ও ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ সামনে আসার পর নির্বাচন কমিশন সেই ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। আগামী ২১ মে সেখানে ফের ভোটগ্রহণ হবে এবং ফল ঘোষণা হবে ২৪ মে।
জাহাঙ্গির খানের আইনজীবীর দাবি, ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে একের পর এক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মে মাসেই ফলতা থানায় মোট পাঁচটি মামলা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় আগেই আদালতের রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়, ফলতা নির্বাচনে যে অশান্তি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তার অন্যতম মূলচক্রী হিসেবে জাহাঙ্গির খানের নাম উঠে এসেছে। তদন্ত এখনও চলছে বলেও জানানো হয়।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত পর্যবেক্ষণ করে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে তাঁর বিরুদ্ধে যেহেতু একাধিক অভিযোগ রয়েছে, তাই ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি। আদালত নির্দেশ দেয়, সাত দিনের মধ্যে জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে চলা সমস্ত ফৌজদারি মামলার নথি তাঁকে দিতে হবে।
ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খান। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee-র ঘনিষ্ঠ হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
বিধানসভা ভোটের সময় তৎকালীন আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মার সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য বাকযুদ্ধও রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলেছিল। সেই সময় ‘পুষ্পা’ সিনেমার জনপ্রিয় সংলাপ টেনে তাঁর মন্তব্য — “ঝুঁকেগা নহি” — বিশেষভাবে চর্চায় এসেছিল। এবার ভোটের আগেই আদালতের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেয়ে রাজনৈতিক মহলে ফের চর্চার কেন্দ্রে উঠে এলেন জাহাঙ্গির

Recent Comments