ভারতীয় রাজনীতির আঙিনায় নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) থেকে রাজ্যসভার (Rajya Sabha) তিনটি শূন্য আসন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এই আসনগুলিতে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। কমিশনের সাম্প্রতিক প্রেস নোট অনুযায়ী, তিনটি পৃথক শূন্য আসনের জন্য আলাদাভাবে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আসন শূন্য হওয়ার কারণ ও প্রেক্ষাপট
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Sekhar Ray), সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev) এবং প্রকাশ চিক বারাইক (Prakash Chik Baraik) পদত্যাগ করার ফলে রাজ্যসভার এই তিনটি আসন শূন্য হয়েছে। সুখেন্দু শেখর রায়ের আসনটি ৮ জুন ২০২৬, সুস্মিতা দেবের আসনটি ১০ জুন ২০২৬ এবং প্রকাশ চিক বারাইকের আসনটি ১১ জুন ২০২৬ তারিখে শূন্য ঘোষিত হয়। এই আসনগুলির মেয়াদ যথাক্রমে ১৮ আগস্ট ২০২৯, ২ এপ্রিল ২০৩০ এবং ১৮ আগস্ট ২০২৯ পর্যন্ত ছিল।
নির্বাচনের সম্পূর্ণ সময়সূচি
রাজ্যসভার এই তিনটি আসনের জন্য নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করেছে। নিচে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো তুলে ধরা হলো:
- বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ: ৭ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার।
- মনোনয়ন জমার শেষ তারিখ: ১৪ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার।
- মনোনয়ন যাচাই-বাছাই: ১৫ জুলাই ২০২৬, বুধবার।
- প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ: ১৭ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার।
- ভোটগ্রহণের দিন: ২৪ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার।
- ভোটের সময়: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
- ভোট গণনা: ২৪ জুলাই, বিকেল ৫টা থেকে।
- নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার শেষ তারিখ: ২৭ জুলাই ২০২৬, সোমবার।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি ও নির্দেশিকা
স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ভারতের নির্বাচন কমিশন বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজরদারি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা নির্দিষ্ট বেগুনি রঙের স্কেচ পেন (violet colour sketch pen) ব্যবহার করেই ব্যালট পেপারে পছন্দসই প্রার্থীকে চিহ্নিত করতে হবে। অন্য কোনো কলম ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কমিশন আরও স্পষ্ট করেছে যে, প্রতিটি আসনকে পৃথক হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রতিটি শূন্যপদের জন্য আলাদা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে, যদিও এই নির্বাচনের সময়সূচি অভিন্ন থাকবে। রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫১-এর ধারা ১৪৭ থেকে ১৫১ অনুযায়ী এবং অতীতে কমিশনের ধারাবাহিক অনুশীলনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ২০০৯ সালের ২০ জানুয়ারিতে দিল্লি হাইকোর্টের (Delhi High Court) দেওয়া একটি রায়েও এই প্রক্রিয়ার বৈধতা স্বীকৃত হয়েছে।


Recent Comments