জোড়াফুল প্রতীক ও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (এআইটিসি)-র নামের অধিকার নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে। সেই আবহেই সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
জানা গিয়েছে, রবিবার দিনভর দুই শিবিরই নথিপত্র প্রস্তুত করার কাজে ব্যস্ত ছিল। কালীঘাট শিবিরের পক্ষ থেকে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়ে নথি জমা দিতে পারেন। অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাঁদের প্রতিনিধিরাই কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেবেন।
নির্বাচন কমিশন মূলত দলের শেষ সাংগঠনিক নির্বাচন, বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো, বিধায়ক, কাউন্সিলর ও পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের সংখ্যা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চেয়েছে। দুই পক্ষই নিজেদের দাবির পক্ষে এই তথ্য জমা দিয়ে প্রমাণ করতে চাইছে যে তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তরাধিকারী।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রতীক নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে নতুন প্রতীক নিয়েও নির্বাচনী প্রচারে নামতে তিনি প্রস্তুত। যদিও কালীঘাট শিবিরের দাবি, দল গঠনের ঐতিহাসিক নথি এবং সাংগঠনিক ভিত্তির জোরেই জোড়াফুল প্রতীক তাদের কাছেই থাকা উচিত।
অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহে কালীঘাট শিবিরে একাধিক সাংগঠনিক পদে পরিবর্তন হয়েছে। ফলে তাদের জমা দেওয়া বিভিন্ন নথির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে বলে দাবি বিদ্রোহীদের।
তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সোমবার নথি জমা পড়লেও এতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে না। নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখে এক বা একাধিক দফায় শুনানি করতে পারে। এরপরই জোড়াফুল প্রতীক ও দলের নামের অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। কমিশনের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট পক্ষ আদালতের দ্বারস্থও হতে পারে।


Recent Comments