বিশ্বখ্যাত তাত্ত্বিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মাহমুদ মামদানি আবারও আলোচনায়। এবার তিনি ব্রিটিশ রাজমুকুটের শোভা বর্ধনকারী বিতর্কিত ‘কোহিনূর’ হীরাটি তার আদি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন।
মামদানির মতে, এই হীরাটি কেবল একটি মূল্যবান রত্ন নয়, বরং এটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী লুণ্ঠন ও শোষণের এক জীবন্ত প্রতীক।সম্প্রতি একটি আলোচনায় অংশ নিয়ে মামদানি স্পষ্ট জানান, কোহিনূর যে প্রক্রিয়ায় লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা কোনোভাবেই ‘উপহার’ বা ‘স্বেচ্ছায় দান’ হতে পারে না। ইতিহাস সাক্ষী যে, শিখ সাম্রাজ্যের পতনের পর ১০ বছর বয়সী মহারাজা দলীপ সিংকে দিয়ে অত্যন্ত চাপ সৃষ্টি করে চুক্তিতে সই করানো হয়েছিল।
এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই তিনি দাবি করেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং ঔপনিবেশিক ইতিহাসের ভুল সংশোধনের জন্য এটি ফিরিয়ে দেওয়া অপরিহার্য।মামদানি মনে করেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ থেকে লুট করে নিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার যে দাবি উঠেছে, তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কোহিনূর ফিরিয়ে দেওয়া হলে তা কেবল ভারতের (বা এর প্রকৃত দাবিদারদের) জয় হবে না, বরং এটি হবে পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে অতীতের সাম্রাজ্যবাদী কর্মকাণ্ডের জন্য এক ধরনের নৈতিক দায়বদ্ধতা স্বীকার করা।
তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশরা প্রায়ই দাবি করে যে তারা এই শিল্পকর্ম বা রত্নগুলো রক্ষার জন্যই নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মামদানির মতে, এই যুক্তি এখন অচল। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ তাদের সম্পদ রক্ষার পূর্ণ অধিকার ও ক্ষমতা রাখে।উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান—তিন দেশই কোহিনূরের মালিকানা দাবি করে আসছে। ব্রিটিশ সরকার বারবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও, মামদানির মতো বুদ্ধিজীবীদের এই সওয়াল আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মামদানির এই অবস্থান বিশ্বজুড়ে ‘ডিকলোনাইজেশন’ বা বি-উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে।বর্তমানে ব্রিটিশ মিউজিয়াম ও রাজপরিবারের সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন দেশের অমূল্য সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মামদানির এই মন্তব্য ব্রিটেনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক চাপ তৈরি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


Recent Comments