রাজ্য রাজনীতিতে দুর্নীতির অভিযোগ যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড়সড় কেলেঙ্কারির পাশাপাশি এবার নিচুতলার নেতাদের বিরুদ্ধেও উঠছে গুরুতর অভিযোগ। খোদ সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণ আত্মসাৎ এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে তোলাবাজির অভিযোগে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন দুই নেতা। ঘটনা দুটি ঘটেছে রাজ্যের দুই ভিন্ন প্রান্তে— আসানসোল (Asansol) এবং হুগলি (Hooghly) জেলায়। নিউজস্কোপ বাংলার বিশেষ প্রতিবেদনে রইল এই জোড়া দুর্নীতির বিস্তারিত খবর।আসানসোলে গরিবের ত্রিপল চুরির অভিযোগপ্রথম ঘটনাটি ঘটেছে রাজ্যের অন্যতম বড় শিল্পাঞ্চলে। সেখানে খোদ শাসক দলের এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে উঠেছে অত্যন্ত অমানবিক এক অভিযোগ। জানা গিয়েছে, সরকারিভাবে আসা ত্রিপল আত্মসাৎ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেখানকার এক তৃণমূল কাউন্সিলরকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কালবৈশাখী বা বর্ষার সময়ে গরিব ও অসহায় মানুষদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতেই রাজ্য সরকার এই ত্রিপলগুলি বরাদ্দ করে থাকে। কিন্তু সেই সরকারি ত্রাণ যদি প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে না পৌঁছে নেতাদের গুদামে চলে যায়, তবে সাধারণ মানুষের যাওয়ার জায়গা কোথায়?স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল যে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় তাঁরা প্রশাসনের কাছ থেকে ন্যায্য সাহায্য পান না। একাধিকবার ব্লক স্তরে এই নিয়ে অভিযোগও জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পুলিশি তদন্তে সেই অভিযোগই মান্যতা পেল এবং গ্রেপ্তার হলেন ওই দাপুটে কাউন্সিলর। তবে প্রশাসন যে এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিচ্ছে, এই গ্রেপ্তারি তারই প্রমাণ।
হুগলিতে তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত কর্মাধ্যক্ষঅন্যদিকে, দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণবঙ্গের আরেক গুরুত্বপূর্ণ জেলায়। হুগলিতেও পুলিশের তরফে চলছে লাগাতার ধরপাকড়। তোলাবাজি বা এক্সটর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উত্তরপাড়া শ্রীরামপুর (Uttarpara Srirampur) ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কৌশিক দাসকে (Koushik Das)।পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে এলাকার রাস্তাঘাট নির্মাণ, পানীয় জলের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নানা উন্নয়নমূলক কাজের দেখভালের দায়িত্ব থাকে তাঁর কাঁধে। কিন্তু সেই পদকে ঢাল করেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদার এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা টাকার তোলাবাজি চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ জমা পড়েছিল পুলিশের কাছে। অভিযোগ, তাঁর নির্দিষ্ট ‘কাটমানি’ না দিলে এলাকায় কোনও উন্নয়নের কাজ করা যেত না। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।রাজনৈতিক মহলে প্রভাব ও সাধারণের প্রতিক্রিয়াএই দুটি ঘটনাই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনেই রয়েছে একাধিক নির্বাচন। তার আগে পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরের নেতাদের এই ধরনের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া বিরোধীদের হাতে সমালোচনার নতুন অস্ত্র তুলে দিল।সাধারণ মানুষের মনেও এই ঘটনা গভীর প্রভাব ফেলছে। তবে আশার কথা একটাই, পুলিশ প্রশাসন এখন অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। প্রভাবশালী তকমা থাকলেও কাউকে রেয়াত করা হচ্ছে না। আগামী দিনে এই দুই নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত কোন পথে এগোয় এবং আরও প্রভাবশালীর নাম এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।


Recent Comments