অশোক সেনগুপ্ত
সিপিএম, অতি বাম এবং দখলদারদের সম্মিলিত বাধা উপেক্ষা করে রবিবার গভীর রাতে রেলের জমি থেকে উচ্ছেদ অভিযানের হল যাদবপুরে। বাধাদানকারীদের হঠাতে পুলিশকে লাঠি চালাতে হয়। এতে আহত হন সিপিএম-এর সুজন চক্রবর্তী, সৃজন ভট্টাচার্য-সহ বেশ কয়েকজন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সৃজন-সহ পাঁচ জনকে আটক করেছে। সূত্রের খবর, সুজনবাবুকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য রাতেই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন জায়গায় পর্যায়ক্রমে দখলদার উচ্ছেদ চলছে। শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন-সংলগ্ন জায়গায় বেশ কিছুদিন আগেই হয়েছে এই অভিযান। রেলের তরফে আগেও একাধিকবার দখলদারদের সরে যেতে বলা হরেছিল। তাতে কাজ না হওয়ায় ইতিমধ্যে রাজ্যের বেশ কিছু স্টেশনের কাছে উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে। যাদবপুরে অভিযান আটকাতে ক’দিন ধরেই সৃজনের নেতৃত্বে প্রস্তুত ছিল সিপিএম সমর্থকদের একাংশ।

যাদবপুরে রেলের জমি দখল শুরু ভারতের স্বাধীনতার পর থেকেই। ক্রমে বাড়তে বাড়তে তা লাগামছাড়া হয়েছে। বেশ কয়েক বিঘা জমির ওপর তৈরি হয়েছে বাড়ি তৈরির সরঞ্জাম বিক্রির কিছু বড় দোকান, গুদাম, হরেক রকম জিনিস বিক্রির দোকান, বস্তি। সুকান্ত সেতুর একপাশে প্রতি সন্ধ্যায় বড় বাজার বসে। দুপাশে প্লাটফর্মের ওপরেও অনেকটা অংশ দখলদারদের কব্জায়। ওই অঞ্চলে নানা সময় অসামাজিক কিছু কাজের অভিযোগও উঠেছে।

পুলিশের মাইকে প্রচারের মাধ্যমে রবিবার দুপুর থেকেই শুরু হয় সেখানে উচ্ছেদ-অভিযানের প্রস্তুতি। সুকান্ত সেতুর উত্তর মুখে (পালের বাজারের দিকে) লোহার রেলিং দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয় রাস্তা পর্যন্ত রেলের অংশ। একাধিক বুলডোজার দেখে সন্ধ্যার পর ভিড় বাড়তে থাকে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়। উচ্ছেদ শুরুর আগে তর্কবিতর্কের মাঝে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি চালায়।

রাত গভীর হলে বেশ কিছু পাকা কাঠামো বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। সোমবার ভোরের আলো ফোটার আগে থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে অনেকে সেখানে ভিড় জমতে শুরু করে। তবে দখলীকৃত অংশের ৯৫ শতাংশ এখনও রয়ে গিয়েছে। পুলিশ এবং রেলের তরফে তাদের ফের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে দ্রুত নিজেরা রেলের জমি দখলমুক্ত না করলে শীঘ্রই হবে অভিযানের পরবর্তী পর্ব।


Recent Comments