পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অন্দরে ফাটল যেন দীর্ঘস্থায়ী আকার ধারণ করছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে প্রবীণ সাংসদদের মতবিরোধ নতুন কিছু নয়, তবে এবার সেই তিক্ততা পৌঁছেছে চরম সীমায়। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)-এর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন তোলপাড়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর বিরুদ্ধে তিনি যেভাবে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, তা দলের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রকাশ্যে এলো দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভগত কয়েকদিন ধরেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। কিন্তু এবার তিনি সরাসরি নাম না নিলেও যেভাবে নিশানা করেছেন, তা কারোর বুঝতে বাকি নেই। দলের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যপদ্ধতি নিয়ে যে তিনি ভীষণভাবে বিরক্ত, তা তার কথাবার্তায় স্পষ্ট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক ঘনিষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিদ্রোহী মনোভাব কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
‘কী ঔদ্ধত্য!’ তোপ কল্যাণবাবুর
একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের সমালোচনা করেছেন, তাতে উপস্থিত অনেকেই অবাক হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, দলের মধ্যে এখন মত প্রকাশের স্বাধীনতা কমে গেছে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে দলের জন্য লড়াই করেছেন, তাদের মূল্যায়ন হচ্ছে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সরাসরি উচ্চারণ না করলেও, তার বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন কল্যাণবাবু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাপরে, কী ঔদ্ধত্য!” মূলত দলের বর্তমান পরিচালনার ধরণ এবং কর্মীদের প্রতি আচরণের বিরুদ্ধেই এই ক্ষোভ।
দল ছাড়ার জল্পনা কি সত্যি?
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের পর থেকেই রাজনীতির অলিন্দে শুরু হয়েছে জল্পনা। তৃণমূলের ভেতরে এখন একটাই বড় প্রশ্ন— তবে কি এবার দল ছাড়তে চলেছেন বর্ষীয়ান এই নেতা? যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এমন কোনো ঘোষণা করেননি, তবে তার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য অন্য কোনো ইঙ্গিতই দিচ্ছে।অনেকেই মনে করছেন, তিনি যেভাবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন, তাতে দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না, সেটাই দেখার। তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি কোনো চাপের কাছে মাথা নত করতে নারাজ, তা আগেও বারবার প্রমাণিত হয়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে?
বাংলা (Bengal)-র রাজনীতিতে তৃণমূলের সংগঠন একসময় অত্যন্ত সুসংহত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলের অন্দরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর লড়াই যেভাবে প্রকাশ্যে আসছে, তাতে আসন্ন নির্বাচন বা বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এর প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান একাংশ।


Recent Comments