আইপিএল ২০২৬-এর ৪৫ নম্বর ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে তাদের ঘরের মাঠেই পর্যুদস্ত করল কলকাতা নাইট রাইডার্স। বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স এবং টপ অর্ডার ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১০ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে কেকেআর।হায়দ্রাবাদের ব্যাটিং বিপর্যয়টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন হায়দ্রাবাদ অধিনায়ক।
শুরুটা ঝোড়ো মেজাজে করেছিলেন ট্রাভিস হেড। তিনি মাত্র ২৮ বলে ৬১ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা। অন্য প্রান্তে ইশান কিষাণ ২৯ বলে ৪২ রান করে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন। তবে এই দুই ওপেনার বিদায় নিতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে হায়দ্রাবাদের মিডল অর্ডার। বরুণ চক্রবর্তীর স্পিন জাদুতে দিশেহারা হয়ে পড়ে অরেঞ্জ আর্মি। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১৬৫ রানেই গুটিয়ে যায় হায়দ্রাবাদের ইনিংস।
কলকাতার হয়ে বল হাতে সবথেকে সফল ছিলেন বরুণ চক্রবর্তী। তিনি ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। অভিজ্ঞ সুনীল নারিন ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। এই ম্যাচেই নারিন তার আইপিএল ক্যারিয়ারের ২০০তম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এছাড়া কার্তিক ত্যাগীও ৩০ রান খরচ করে ২ উইকেট শিকার করেন।
১৬৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে কেকেআর শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করতে থাকে। ওপেনার ফিন অ্যালেন মাত্র ১৩ বলে ২৯ রান করে জয়ের গতি সেট করে দেন। এরপর তরুণ তুর্কি অংকৃষ রঘুবংশী দলের হাল ধরেন। তিনি ৪৭ বলে ৫৯ রানের একটি ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে ৩৬ বলে ৪৩ রান করে আউট হলেও জয়ের পথে কোনো বাধা আসেনি। শেষ দিকে রিঙ্কু সিং মাত্র ১১ বলে অপরাজিত ২২ রান করে ১৮.২ ওভারেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
হায়দ্রাবাদের করা ১৬৫ রানের জবাবে কলকাতা ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান তোলে। ৭ উইকেটের এই বড় ব্যবধানে জয়ের ফলে লিগ টেবিলে কেকেআরের অবস্থান আরও মজবুত হলো। অসাধারণ বোলিংয়ের জন্য বরুণ চক্রবর্তীকে ‘ম্যাচ সেরা’ ঘোষণা করা হয়েছে।


Recent Comments