রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাব এবার স্পষ্ট মালদহের ফুলবাজারেও। দুর্গাপুজো বা কোনও বড় ধর্মীয় উৎসব নয়, তবুও জেলার বিভিন্ন ফুলবাজারে এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদা পদ্মফুলের। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই যেন মালদহ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ‘পদ্ম জ্বর’। সকাল হতেই শহরের ফুলবাজারগুলিতে উপচে পড়ছে বিজেপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভিড়। কেউ কিনছেন পদ্মফুলের মালা, কেউ আবার বড় বড় পুষ্পস্তবক কিংবা বিশেষ তোড়া।জানা গিয়েছে, বিজেপির জয়ী প্রার্থী ও নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানাতেই এই বিপুল আয়োজন।
রাজনৈতিক আবহে পদ্ম এখন শুধুই একটি ফুল নয়, হয়ে উঠেছে ক্ষমতার প্রতীক। আর সেই প্রতীকের চাহিদা বাড়তেই কার্যত নাজেহাল অবস্থা মালদহের ফুল ব্যবসায়ীদের।মালদহ শহরের বিভিন্ন ফুলবাজারে সকাল থেকেই দেখা যাচ্ছে ব্যস্ততার চরম ছবি। দোকানে দোকানে পদ্মফুল কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। অনেকেই আগেভাগে অর্ডার দিয়ে রাখছেন মালা ও বিশেষ বাকেটের জন্য। ফুল বিক্রেতাদের কথায়, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পদ্মফুলের চাহিদা কয়েকগুণ বেশি।চাহিদা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। মালদহে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় হাওড়া, রানাঘাট-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকে ট্রাকে পদ্মফুল আনানো হচ্ছে।
তবুও বাজারে ফুল পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দামও পৌঁছে গিয়েছে আকাশছোঁয়া উচ্চতায়।বর্তমানে একটি পদ্মফুলের মালার দাম উঠেছে প্রায় ১০০০ টাকা পর্যন্ত। ছোট তোড়া কিংবা বাকেটের দামও ৩০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তবুও চাহিদায় কোনও ভাটা নেই বলেই দাবি ব্যবসায়ীদের।মালদহ শহরের ফুল ব্যবসায়ী ছোটন দাস বলেন, “এভাবে কোনওদিন পদ্মফুল বিক্রি হতে দেখিনি। বাজারে যত ফুল আসছে, সব মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা মালা আর বড় বাকেটের।” আরেক ব্যবসায়ী অমর মণ্ডলের কথায়, “রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই হঠাৎ করে পদ্মের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। এখন অন্য ফুলের থেকে পদ্মই বেশি বিক্রি হচ্ছে।”

Recent Comments