দেশের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণকারী সংস্থা নীতি আয়োগ (NITI Aayog)-এর শীর্ষস্তরে বড়সড় রদবদল ঘটল। নয়া ভাইস চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন প্রবীণ ও অত্যন্ত অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ডঃ অশোক লাহিড়ী (Dr Ashok Lahiri)। একইসঙ্গে এই থিঙ্ক ট্যাঙ্কের নতুন সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও আণবিক বিজ্ঞানের স্বনামধন্য অধ্যাপক ডঃ গোবর্ধন দাস (Dr Gobardhan Das)। ভারত (India)-এর সার্বিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ এক নতুন মাত্রার যোগ করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। নিউজস্কোপ বাংলার প্রতিনিধি হিসেবে এই দুই নতুন নিয়োগের বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হলো।
ডঃ অশোক লাহিড়ী দেশের অন্যতম প্রবীণ, অভিজ্ঞ এবং সম্মাননীয় অর্থনীতিবিদ। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন চার দশকেরও বেশি সময় জুড়ে বিস্তৃত। এই সুদীর্ঘ সময়ে তিনি অর্থনীতি, পলিসি মেকিং এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দেশ ও বিদেশের বহু শীর্ষ পদ সামলেছেন। তিনি এর আগে ভারত সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (Chief Economic Adviser) হিসেবে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং দেশের আর্থিক সংস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি অর্থ কমিশন (Finance Commission)-এর সদস্য হিসেবেও নিজের অসামান্য অবদান রেখেছেন। শুধুমাত্র দেশের গণ্ডিতেই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও তাঁর পরিচিতি এবং ব্যাপ্তি বিপুল। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (Asian Development Bank), বিশ্বব্যাঙ্ক (World Bank) এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর মতো বিশ্ববরেণ্য প্রতিষ্ঠানগুলিতেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সুদক্ষভাবে পালন করেছেন। তাঁর এই সুগভীর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর অগাধ পাণ্ডিত্য দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তৈরি এবং বর্তমানের জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাবে বলে অন্যান্য অর্থনীতিবিদদের দৃঢ় বিশ্বাস।
অন্যদিকে, নীতি আয়োগের নতুন সদস্য হিসেবে নিযুক্ত ডঃ গোবর্ধন দাস বিজ্ঞান, গবেষণা এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এক অতি পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম। তিনি আণবিক বিজ্ঞান (Molecular Science)-এর একজন প্রখ্যাত অধ্যাপক। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে তিনি বিজ্ঞানের বিভিন্ন জটিল এবং অত্যাধুনিক শাখায় নিরলস কাজ করে চলেছেন। তাঁর মূল গবেষণার বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ইমিউনোলজি (Immunology) বা অনাক্রম্যতাবিদ্যা, সংক্রামক ব্যাধি (Infectious Diseases) এবং সেল বায়োলজি (Cell Biology)।
বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপর যে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে ডঃ দাসের মতো একজন প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞের এই সংস্থায় যোগদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি, যেকোনো ধরনের মহামারী বা সংক্রামক ব্যাধির মোকাবিলা এবং দেশের নিজস্ব চিকিৎসা পরিকাঠামো ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে আরও উন্নত এবং যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে তাঁর সুচিন্তিত পরামর্শ আগামী দিনে সরকারকে প্রভূত সাহায্য করবে।


Recent Comments