জনপ্রিয় অভিনেতা তথা পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chatterjee)-কে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে আইনি বিতর্ক। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল পুলিশি এফআইআর (FIR)। এবার সেই আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজের বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর (FIR) খারিজের আর্জি জানিয়ে সরাসরি কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)-এর দ্বারস্থ হলেন অভিনেতা। ২০২১ সালের মে মাসে বাংলায় ভোট গণনার দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে পরমব্রতর বিরুদ্ধে। পাঁচ বছর পর, অর্থাৎ ২০২৬ সালের মে মাসে এসে সেই পুরনো ফেসবুক ও এক্স (টুইটার) পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে টলিপাড়ায়। কলকাতা পুলিশের গড়িয়াহাট থানায় (Gariahat Police Station) এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়, যার ভিত্তিতে শুরু হয়েছে আইনি প্রক্রিয়া।
ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে অভিনেতার বিরুদ্ধে?
তৎকালীন বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন, অর্থাৎ ২ মে, ২০২১ তারিখে রাজনৈতিক পারদ ছিল তুঙ্গে। অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chatterjee) তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে লিখেছিলেন, “আজকের দিনটিকে বিশ্ব ধোলাই দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক” (“Let today be declared World Thrashing Day”)। শুধু পরমব্রতই নন, এই মামলায় নাম জড়িয়েছে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee)-রও। অভিযোগ, পরমব্রতর সেই পোস্টে স্বস্তিকা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছিলেন, “হাহাহা, তাই হোক” (“Hahaha, let it be”। অভিযোগকারীর দাবি, যখন রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক হিংসার খবর আসছিল এবং বিরোধী দলের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠছিল, ঠিক সেই সংবেদনশীল সময়ে সেলিব্রিটিদের এমন মন্তব্য জনসমক্ষে হিংসা ও বিদ্বেষ ছড়াতে প্ররোচনা জুগিয়েছে। এমনকি বেলেঘাটায় বিজেপি (BJP) কর্মী অভিজিৎ সরকারের (Abhijit Sarkar) মৃত্যুর ঘটনার নেপথ্যেও এই ধরণের প্ররোচনামূলক পোস্টের পরোক্ষ প্রভাব ছিল বলে দাবি করা হয়েছে অভিযোগে। ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় এই মামলা রুজু করা হয়।
হাই কোর্টের শরণাপন্ন পরমব্রত
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই সমস্ত অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন অভিনেতা। সেই কারণেই কোনো রকম আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়ার আগেই তিনি কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)-এ মামলা দায়ের করেছেন, যাতে এই এফআইআর (FIR) সম্পূর্ণ বাতিল বা খারিজ করা হয়। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের খবর, কোনো রকম হিংসায় উসকানি দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে সেই মন্তব্য করা হয়নি, তা সম্পূর্ণ অন্য প্রসঙ্গে বা রসিকতার ছলে করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এখন সেটিকে হাতিয়ার করা হচ্ছে।
বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলার বিনোদন জগতের একাধিক ব্যক্তিত্ব রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করে বিতর্কের শিরোনামে এসেছেন। তবে পাঁচ বছর আগের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এভাবে পুলিশি মামলা ও আদালতের দরজায় কড়া নাড়ার ঘটনা বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার জন্ম দিল। এখন দেখার, কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)-এর বিচারপতি এই এফআইআর (FIR) খারিজের আবেদনে সাড়া দেন নাকি অভিনেতাকে তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়।


Recent Comments