পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) দামামা বেজে গিয়েছে। প্রথম দফার পর এবার ফোকাস দ্বিতীয় দফার ভোটের দিকে। আগামী বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার মেগা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই দফায় রাজ্যের মোট ১৪২টি আসনে ভাগ্য নির্ধারণ করবেন সাধারণ মানুষ। আর সেই নির্বাচনের আগে, সোমবারই হলো প্রচারের শেষ দিন। ঠিক এই অন্তিম লগ্নে দলীয় প্রার্থীদের হয়ে ঝড় তুলতে ব্যারাকপুরের অন্তর্গত ভাটপাড়ায় এক বিশাল জনসভা করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।
নিউজস্কোপ বাংলার গ্রাউন্ড রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে গোটা শিল্পাঞ্চলে এখন সাজো সাজো রব। সোমবার সকাল থেকেই ভাটপাড়া ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে গেরুয়া শিবিরের (BJP) কর্মী-সমর্থকদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। হাতে দলীয় পতাকা, মুখে স্লোগান—সব মিলিয়ে এলাকা কার্যত উৎসবের আকার ধারণ করেছে। দ্বিতীয় দফার প্রচারের একেবারে শেষ দিনে খোদ প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসে কী রাজনৈতিক বার্তা দেন, সেদিকেই এখন তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে আছেন স্থানীয় কর্মী থেকে শুরু করে রাজ্য স্তরের নেতারা।
ভাটপাড়া এবং ব্যারাকপুর অঞ্চল বরাবরই বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম উত্তপ্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ ভরকেন্দ্র। বিগত কয়েকটি নির্বাচন ও উপনির্বাচনের নিরিখে এই এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ বারবার বদলেছে। একদিকে যেমন শাসকদলের শক্ত ঘাঁটি, অন্যদিকে তেমনই গেরুয়া শিবিরের প্রবল উত্থান এই অঞ্চলকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর করে তুলেছে। এলাকার জুটমিল শ্রমিক এবং হিন্দিভাষী ভোটারদের মন জয় করতে মোদীর এই সভা যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এই সভা শুধু কর্মীদের মনোবলই বাড়াবে না, বরং সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও একটা বড় প্রভাব ফেলবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বিজেপি কর্মী আমাদের জানান, “মোদীজি আসছেন, এটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পাওনা। বিরোধীরা যতই চক্রান্ত করুক, ভাটপাড়ার মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবেন।”
অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরও এই সভার দিকে কড়া নজর রাখছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, বহিরাগত নেতাদের এনে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। তবে সমস্ত রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে, প্রচারের শেষ বেলায় প্রধানমন্ত্রীর এই মেগা র্যালি যে রাজ্য রাজনীতির পারদ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
১৪২টি আসনের এই দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের কাছেই এটি একটি মর্যাদার লড়াই। সোমবার বিকেল ৫টায় যখন প্রচারের কোলাহল শান্ত হবে, তখন আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য নীরবতার মধ্যে দিয়ে ভোটাররা নিজেদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবেন। তবে তার আগে, ভাটপাড়ার মাটি থেকে মোদীর গর্জন বিরোধীদের কতটা চাপে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের মন কতটা জয় করতে পারে, সেটাই এখন সবথেকে বড় কৌতূহলের বিষয়। কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা সভাস্থল।

Recent Comments