ভোটের মরসুমে ফের উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল (Jagaddal)। দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রবল সংঘর্ষ ও অশান্তির ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল পুলিশ প্রশাসন। রবিবার রাতের এই নজিরবিহীন অশান্তির জেরে রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশ মোট চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন জগদ্দল পুরসভার শাসকদলের কাউন্সিলর গোপাল রাউত। খোদ শাসকদলের জনপ্রতিনিধি গ্রেপ্তার হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও নিউজস্কোপ বাংলার খবর অনুযায়ী, রবিবার রাতে ভাটপাড়া ও জগদ্দল এলাকায় দুই রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক বোমাবাজি ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি কোনোক্রমে নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। রাতেই শুরু হয় পুলিশি ধরপাকড়।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের বয়ানের ভিত্তিতে রবিবার গভীর রাত থেকে জগদ্দল ও ভাটপাড়ার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। এই টানা অভিযানের ফলেই গোপাল রাউত সহ চার জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই ঘটনায় জড়িত আরও বেশ কয়েকজনের এখনও খোঁজ মেলেনি। তাদের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি জারি রেখেছে পুলিশ।
এদিকে, সোমবার সকালেও জগদ্দল এলাকার পরিবেশ ছিল যথেষ্ট থমথমে। মোড়ে মোড়ে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো অশান্তি ছড়াতে না পারে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনাকে অত্যন্ত কড়া নজরে দেখছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কমিশনের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সোমবার বিকেলেই ধৃত চার জনকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, তাদের জেরা করে এই ঘটনার মূল চক্রীদের খোঁজ পাওয়া সম্ভব হবে।
নির্বাচনের ঠিক আগে এই অশান্তি সাধারণ ভোটারদের মনে ব্যাপক ভীতির সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শাসকদলের কাউন্সিলরের এহেন গ্রেপ্তারি প্রমাণ করে যে প্রশাসন নিরপেক্ষভাবেই কাজ করার চেষ্টা করছে। তবে বিরোধীদের দাবি, শাসকদল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই গ্রেপ্তারি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরেই ওই অঞ্চলে চাপা রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কিন্তু রবিবার রাতে তা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন কতটা তৎপর থাকে এবং বাকি অপরাধীরা কবে ধরা পড়ে, সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। সব মিলিয়ে জগদ্দলের মাটি আপাতত শান্ত মনে হলেও, রাজনৈতিক উত্তাপের আঁচ একটুও কমেনি।

Recent Comments