নিজস্ব সংবাদদাতা: দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে পূর্ব বর্ধমানে প্রশাসনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রবিবার জেলায় পৌঁছন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তিনি।
বিকেলে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও প্রার্থীদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নির্বাচনী প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটের দিন করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এর আগে বর্ধমান শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মীরছবা এলাকায় গিয়ে সরাসরি সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন কমিশনার। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে মতামত নেন এবং নিরাপত্তা ও স্বচ্ছ ভোটগ্রহণের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। তাঁর এই উদ্যোগে ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়ালের কাজের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে প্রশাসন দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে এবং ভোট পরিচালনায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শহরাঞ্চলে বুথের সংখ্যা বেশি এবং জনঘনত্ব বেশি হওয়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে বাইক টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অলিগলি ও সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং জেলা শাসকের দপ্তর থেকে সরাসরি নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত ক্যামেরা বসানোর প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানান কমিশনার।
দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গঠন করা হয়েছে বিশেষ কিউআরটি (Quick Response Team)। প্রতি ১০টি বুথের জন্য একটি করে দল মোতায়েন থাকবে, যাদের কাছে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানচিত্র ও জরুরি যোগাযোগের তথ্য থাকবে। কোনও অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
ভোটের দিন কড়া নিরাপত্তা বলবৎ থাকবে। ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি, অনুমতি ছাড়া কোনও ব্যক্তি বা সামগ্রী নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরির কাজ করেছেন। নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে পূর্ব বর্ধমানের এই সুসংগঠিত প্রস্তুতি ভোটারদের মধ্যে আস্থা আরও বাড়াবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন করে তুলবে।

Recent Comments