দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম যানজট আর জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাতে অবশেষে কড়া অবস্থান নিল হাওড়া (Howrah) প্রশাসন। সোমবার সকাল থেকে হাওড়া ময়দান ও সংলগ্ন এলাকায় জবরদখল হঠাতে নেমেছে পুলিশ। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে বসা ব্যবসায়ীদের হঠাতে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায়, যা নিয়ে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।
হাওড়ার প্রাণকেন্দ্র মঙ্গলাহাট (Mangalahat) নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। নিয়ম অনুযায়ী, সপ্তাহে মাত্র একদিন, মঙ্গলবার এই হাট বসার কথা থাকলেও, গত কয়েক বছরে তা রবি থেকে মঙ্গলবার—এই তিনদিন পর্যন্ত গড়িয়েছে। রবিবার গভীর রাত থেকেই ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়ে বসে পড়েন, যা চলে সপ্তাহের শুরুর দিন পর্যন্ত। এই অস্বাভাবিক বিস্তৃতির ফলে বিপ্লবী হরেন ঘোষ সরণী, জেলাশাসকের অফিস চত্বর, হাওড়া জেলা হাসপাতাল এবং হাওড়া গার্লস কলেজের সামনের রাস্তা ও ফুটপাথ কার্যত হাঁটার অযোগ্য হয়ে পড়ে। বঙ্কিম সেতুর নীচ থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ এলাকায় মানুষের যাতায়াত চরম ভোগান্তির শিকার হয়।
এদিন সকাল থেকেই হাওড়া ময়দান চত্বরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়। গত সপ্তাহেই মাইকিং করে প্রশাসনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, ফুটপাথ ও রাস্তায় আর হাট বসতে দেওয়া হবে না। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেই হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব না দিয়েই এদিন সকালে ফের জমায়েত করার চেষ্টা করেন। এরপরই আসরে নামে পুলিশ। পুলিশি তৎপরতা দেখে ব্যবসায়ীরা পাল্টা বিক্ষোভ দেখালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষে ভিড় সরাতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট করে দেওয়া জায়গাতেই হকারদের বসতে হবে। কোনোভাবেই জনবহুল রাস্তা বা ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা চালানো বরদাস্ত করা হবে না। ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁদের সপ্তাহে অন্তত একদিন বসতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। তবে প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, সরকারি নির্দেশিকা মেনেই দখলমুক্ত অভিযান চলবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই হাটের এলাকা দখল বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছিল। শহরবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, হাট বসার কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে, যা অ্যাম্বুলেন্স চলাচল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনে বাধা সৃষ্টি করে। এদিন পুলিশের এই অভিযানে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও, ব্যবসায়ী মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা। বর্তমানে পুরো এলাকা পুলিশের কড়া নজরদারিতে রয়েছে। হাওড়া সিটি পুলিশ (Howrah City Police) জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি রুখতে এবং দখলদারমুক্ত শহর গড়তে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।


Recent Comments